ময়মনসিংহে পূজার প্রস্তুতি দেখতে মণ্ডপে-মণ্ডপে ঘুরছেন জেলা প্রশাসক
আরিফ রব্বানী ময়মনসিংহ:আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে ময়মনসিংহ জেলায় শুরু হয়েছে প্রস্তুতির শেষ মুহূর্তের কর্মযজ্ঞ।মণ্ডপগুলোর সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে নিয়মিত পরিদর্শন করছেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান।
নিয়মিত পরিদর্শনের অংশ হিসাবে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জেলা প্রশাসক আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ণ করতে জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরের প্রস্তুতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ ঘুরে দেখেন। এসময় তিনি পূজা উদযাপনের সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এ সময় তিনি সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জেলার অভিভাবক হিসেবে পূজা প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণের এই উদ্যোগে ভুয়সী প্রশংসা করেছেন মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ, পুরোহিত এবং ব্রহ্মচারীরা। তারা জানিয়েছেন, অতীতে পূজা চলাকালীন সময়ে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেও পূজার আগে জেলা প্রশাসকের এভাবে মাঠে নামা এটাই প্রথম।
এদিন জেলা প্রশাসক উপজেলার একাধিক পূজা মণ্ডপে পরিদর্শন করেন। দীর্ঘ সময় মন্দির কর্তৃপক্ষ ও আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক প্রস্তুতি খোঁজ নেন তিনি।
উপজেলার এক মন্দির কমিটির সভাপতি বলেন, “এই জেলা প্রশাসক খুবই আন্তরিক ও ভালো মানুষ। আমরা খুবই উৎসাহিত যে উনি নিজে আমাদের মন্দিরে এসেছেন। আমার জানা মতে, এর আগে কোনো জেলা প্রশাসক পূজার প্রস্তুতি দেখতে আসেননি, শুধু পূজার সময় এসেছেন।”
কমিটির সহ-সভাপতি বলেন, “গত বছর জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসেছিলেন। এবার জেলা প্রশাসক নিজেই প্রস্তুতি দেখতে এলেন। তিনি নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও স্বেচ্ছাসেবক ব্যবস্থাপনা নিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন।”
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক পূজা মণ্ডপে নারী-পুরুষ পূজার্থীদের আসন বিন্যাস, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, প্রতিমা নির্মাণের অগ্রগতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুঁটিনাটি জিজ্ঞেস করেন।
মন্দিরের এক পুরোহিত বলেন, “আমি পাঁচ বছর ধরে এই মন্দিরে আছি। কখনো দেখিনি একজন জেলা প্রশাসক প্রস্তুতি দেখতে সরাসরি এসেছেন। তিনি খুবই সিরিয়াস ছিলেন, বিশেষ করে নিরাপত্তা নিয়ে।”
পুজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দরা বলেন, “পূজার সময় অনেকেই আসেন, কিন্তু প্রস্তুতি দেখতে জেলা প্রশাসকের আগমন এই প্রথম।”
এবার সরকারিভাবে প্রতিটি মণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল এবং ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ থেকে অসচ্ছল মণ্ডপগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, “সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা অত্যন্ত সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করা হবে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, পূজার ষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে। আনসার, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং সেনাবাহিনী নিরাপত্তায় মাঠে থাকবে। প্রতিটি পূজা মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা বসানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা হিসেবে জেনারেটর রাখতে হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “দুর্গাপূজা ঘিরে কোনো গুজব বা ছোটখাটো ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পূজা চলাকালীন শুধু আজান ও নামাজের সময় বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখতে হবে।”
জেলা প্রশাসক সকলকে ধর্মীয় সম্প্রীতি, শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রেখে আনন্দমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপনের আহ্বান জানান।








