পাহাড়ে আত্মনির্ভরশীলতার নতুন দিগন্ত
মিন্টু কান্তি নাথ রাজস্থলী প্রতিনিধি:পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাপ্তাই জোন (৩৮ বীর)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়ায় শুরু হয়েছে বিশেষ কুটির শিল্প প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। স্থানীয় প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে বাঙ্গালহালিয়া আর্মি ক্যাম্পের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বাঙ্গালহালিয়া আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন মর্তুজা সাইফ রাসেল।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ক্যাম্প কমান্ডার বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প ও কুটির শিল্পের রয়েছে ব্যাপক সম্ভাবনা। যথাযথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় নারীরা নিজেদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবেন এবং পরিবারের আর্থিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। এ লক্ষ্যেই কাপ্তাই জোন (৩৮ বীর)-এর উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি এবং একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, কারবারি, নারী প্রশিক্ষণার্থী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয়রা সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পাহাড়ি ও বাঙালি নারীদের হাতে-কলমে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করবে। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্পের বিকাশ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সামগ্রিকভাবে, বাঙ্গালহালিয়া আর্মি ক্যাম্পের এ উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলের নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শান্তি-সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।








