ঢাকা | অক্টোবর ২৮, ২০২৬ - ১২:১৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

শরীয়তপুর-চাঁদপুর সীমান্তে মৎস্যঘের কাটায় বিপাকে চাষিরা

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Tuesday, October 27, 2026 - 5:07 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 11 বার

মোঃ রিদয় মাদবর শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ
শরীয়তপুর ও চাঁদপুর জেলার সীমান্তবর্তী মেঘনা নদী এলাকায় সরকারি খাসজমিতে নির্মিত মৎস্যঘের উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন। স্থানীয় সংসদ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে টানা তিন দিন অভিযান চালিয়ে কয়েকটি মৎস্যঘেরের বাঁধ কেটে দেওয়া হয়েছে। এতে জোর করে কৃষকদের তুলে দিয়ে অবৈধ ভাবে ঘের কাটে একটি চক্র ঘেরের মাছ নদীতে চলে যাওয়ায় ও ঘের খালি হওয়া আনন্দ প্রকাশ করেছে স্থানীয় কৃষকরা। অন্য দিকে অবৈধ এ ঘেরে মাছ সব চলে যাওয়ায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন মৎস্যচাষি ও ঘের মালিকেরা।

শরীয়তপুরের ফেরিঘাট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় এসব মৎস্যঘের গড়ে উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ রয়েছে, মমিন দিদার গং ভূমি দস্যু একটি চক্র সরকারি খাসজমিতে ঘের নির্মাণ করে পরে সাধারণ ব্যবসায়ী ও মৎস্যচাষিদের কাছে সেগুলো লিজ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় মমিন দিদার গংরা।

তারা আরো বলেন , মমিন দিদার কৃষকদের জিম্মি করে এসব ঘের নির্মাণ ও পরিচালনার করে আছে। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী স্থানীয় নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, ঘেরের বাঁধ কেটে দেওয়ার পর মাছ নদীতে ছড়িয়ে পড়লে চাঁদপুর ও শরীয়তপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু মানুষ সেখানে মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় চাঁদপুরের প্রশাসন ও সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহাম্মেদ মানিকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন । অন্য দিকে ঘের মালিকদের দাবি, অনেকে এসব মাছ কম দামে বিক্রি করেছেন। এতে তাঁদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কেউ কেউ ক্ষতির পরিমাণ ২০ কোটি কেউ ১ শত কোটি টাকা বলে দাবি করেছেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করা যায়নি।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের দাবি, সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করার লক্ষ্যেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অবৈধ ভাবে ঘরা মৎস্যঘেরের বাঁধের বিভিন্ন অংশ কেটে দিয়ে মেঘনা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং সরকারি খাসজমি অবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘের মালিক ও মৎস্যচাষিদের অভিযোগ, কোনো ধরনের আগাম নোটিশ না দিয়েই তাঁদের ঘেরের বাঁধ কেটে দেওয়া হয়েছে। এতে চাষ করা বিপুল পরিমাণ মাছ নদীতে চলে যায়। তাঁদের দাবি, আগে থেকে নোটিশ দিয়ে সময় দেওয়া হলে মাছ সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হতো এবং ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো যেত।

এ বিষয়ে শরীয়তপুরের স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রথমে দুই জেলার সীমানা সঠিকভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। ঘেরের কোন অংশ চাঁদপুর এবং কোন অংশ শরীয়তপুরের সীমানার মধ্যে পড়েছে, তা নির্ধারণের পর অবৈধ ভাবে ঘরা ঘের কাটা চক্র বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।