নিশাত’র স্বপ্ন ছিল ইঞ্জিনিয়ার-পাইলট হওয়ার, পরিবারের ইচ্ছায় হলেন ডাক্তার
রাজন আবেদীন রাজু, স্টাফ রিপোর্টার:ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছিলেন মৌলভীবাজার জেলার মেয়ে ডা. নিশাত জাহান চৌধুরী। কৈশোর থেকেই পড়াশোনায় অতিরিক্ত কারিকুলার কার্যক্রমে সর্বদা অগ্রণী ছিলেন। গণিত ও যুক্তিবাদী চিন্তাধারায় বিশ্বাসী ডা. নিশাতের শৈশবের স্বপ্ন ছিল মেরিন ইঞ্জিনিয়ার বা পাইলট হওয়ার কিন্তু পরিবারের ইচ্ছায় মেডিকেল শিক্ষার পথ বেছে নেওয়ার ফলে স্বপ্ন থেকে কিছুটা বিচ্যুত হলেও, অন্যদিকে এক নতুন সুযোগের দিকে মনোনিবেশ করছেন।
বাবা রিটায়ার্ড ফার্স্ট ক্লাস গভার্ণমেন্ট অফিসার গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী ও মা শিক্ষিকা মোমতাজ বেগমের কোল আলো করে ২ নভেম্বর ১৯৯৮ সালে কুলাউড়া উপজেলায় ডা. নিশাত জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থান করছেন।
মেধা তালিকায় তিনি বাজার মডেল স্কুল থেকে পিএসসি তে বোর্ডে প্রথম, আলী আমজাদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি ও এসএসসি, মৌলবাদীবাজার সরকারি কলেজ থেকে পাবলিক পরীক্ষায় বোর্ড স্ট্যান্ড হয়েছিলেন। তারপর সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ থেকে ২০২২ সালে এমবিবিএস শেষ করেন। এমবিবিএস এর প্রথম বছরের দিকে ইংল্যান্ডের লাইসেন্সিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেম্বার অব রয়্যাল কলেজ অব সার্জন (এমআরসিএস) এর পার্ট এ পাশ করেন।
ডা. নিশাত জাহান চৌধুরী বলেন, ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ও এক্সট্রা কারিকুলার কার্যক্রমে সর্বদা অগ্রণী ছিলাম। শৈশবে আমার স্বপ্ন ছিল মেরিন ইঞ্জিনিয়ার বা পাইলট হওয়ার, যা আমাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর আকাঙ্ক্ষা জাগায়। পরিবারের ইচ্ছায় মেডিকেল শিক্ষার পথ বেছে নেওয়ার ফলে আমি সেসব স্বপ্ন থেকে কিছুটা বিচ্যুত হলেও, অন্যদিকে এক নতুন সুযোগের দিকে মনোনিবেশ করি।
তিনি আরো বলেন, মেডিকেল শিক্ষার প্রক্রিয়ায় মুখস্থ বিদ্যার প্রাদুর্ভাবে কিছুটা হতাশ ছিলাম। আমি বরাবরের গণিত ও যুক্তিবাদী চিন্তাধারায় বিশ্বাসী। আমাদের দেশে ডাক্তারদের অবস্থান নিয়ে অনেকেই দ্বিধাগ্রস্থ। তাই এমবিবিএস শেষে ক্যারিয়ারের দিক নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল, দেশ নাকি বিদেশ। ইন্টার্নিশিপে থাকাকালীন ওইটি আর প্লাব পরীক্ষা দেই। এক বছরের মাথায় এম আর সি এস এর প্রথম পরীক্ষায় অংশ নেই, আমি মনে করি ডিসিশনাল ডিলে আমাদের সবচেয়ে বড় বাধা। ভবিষ্যতে স্পেশালিস্ট ট্রেনিংয়ে প্রবেশের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিয়েছি।
ডা. নিশাত পরিবার নিয়ে বলেন, আমার বাবা-মা বিশেষ করে আমার মা সর্বদা আমার পাশে থেকে আমাকে সাপোর্ট ও প্রেরণা দিয়েছেন। পরিবার ও কিছু বিশেষ মানুষের অবদান আমার জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করেছে। তাঁদের ভালোবাসা ও সহায়তায় আমি যে কোন বাধা পার হয়ে আরও এগিয়ে চলার শক্তি পেয়েছি।
যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের অভিজ্ঞতার বিষয়ে ডা. নিশাত আরো বলেন, বাংলাদেশে পার্টিয়ালিটি খুব বেশি। এমনও আছে আমার নিজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, এমবিবিএস ছাড়া যার অন্য কোন ডিগ্রি নেই তাকে অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার পদে রাখা হচ্ছে অথচ যোগ্যতাসম্পন্ন অনেকেই উপযুক্ত পদ পাচ্ছে না। দেখা যায় এ ধরণের পুরুষ চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অনেক নারী চিকিৎসকের অভিযোগ থাকলেও তারা প্রফেসরের নাম চালিয়ে অনায়াসে জীবন পার করছে। যুক্তরাজ্যে আাসার পর এদেশে জীবনযাত্রা অনেক ভিন্ন, যেকোন ধরণের বৈষম্য অথবা হ্যারাসমেন্টকে গুরুত্বের সাথে নেয়া হয়। কাজের জায়গায় আপনার মেধার মূল্যায়ন হয়।
যারা নবীন তাদের উদ্দেশ্যে একটাই উপদেশ, নিজের লক্ষ্যে সৎ থাকলে আশেপাশের যত আগাছার মত মানুষ থাকুক না কেন; জয় তোমার-ই।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তিনি বলেন, চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে ও সমাজে যথাযোগ্য অবদান রাখতে সর্বদা সচেষ্ট থাকব। আমার ইচ্ছা বাংলাদেশে পথশিশুসহ অসহায় বাবা-মাদের একটি কেয়ার হোম প্রতিষ্ঠা করা। আমার এই যাত্রায় আপনাদের শুভেচ্ছা ও প্রার্থনার আহ্বান জানাই।








