ঢাকা | মার্চ ১১, ২০২৬ - ৮:৫৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

১৮ ঘণ্টার মধ্যেই অপহরণচেষ্টার রহস্য উদঘাটন: ৩ জন গ্রেপ্তার

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Wednesday, March 11, 2026 - 1:33 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 47 বার
রাজন আবেদীন রাজু, স্টাফ রিপোর্টার:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে এক নারীকে অপহরণের চেষ্টার ঘটনায় দ্রুত সময়ের মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ। একই সাথে অপহরণচেষ্টায় ব্যবহৃত সাদা রঙের একটি প্রাইভেট কারও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের এই দ্রুত ও দক্ষ অভিযানে স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কমলগঞ্জ থানার মামলা নং-০৭, জিআর-১৯/২৬, তারিখ ০৯ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৭/৩০ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলার বাদী ফাতেমা পারভেজ নিশি (২৯), পিতা-মি. বাপ্পি এরিক, স্বামী-মো. মাসুদ পারভেজ, মাতা-মিসেস সিলভিয়া এরিক, দক্ষিণ বালিগাঁও, ৫নং কমলগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি অভিযোগ করেন, গত ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৬টা ৪০ মিনিটে শ্রীমঙ্গল যাওয়ার উদ্দেশ্যে বটতলা বাজারে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় ভানুগাছের দিক থেকে আসা ঢাকা মেট্রো-ক-০৩-৯৪৯৪ নম্বরের একটি সাদা রঙের প্রাইভেট কারের চালক তাকে শ্রীমঙ্গল যাবেন কিনা জিজ্ঞাসা করেন।
বাদী গাড়িতে যেতে অস্বীকৃতি জানালে গাড়িটি বারবার সামনে-পেছনে ঘোরাফেরা করতে থাকে। এতে সন্দেহ হলে তিনি মেইন রাস্তা থেকে নিজের বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করেন। এ সময় গাড়িটি তাকে অনুসরণ করে বাড়ির রাস্তায় প্রবেশ করে।
গাড়ির পেছনের সিটে থাকা তিনজনের মধ্যে একজন নেমে এসে তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে। তবে সাহসিকতার সাথে ধস্তাধস্তি করে বাদী সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে সক্ষম হন। পরে গাড়িটি দ্রুত শ্রীমঙ্গলের দিকে চলে যায়।
ঘটনার পরপরই কমলগঞ্জ থানা পুলিশ মামলা রুজু করে এবং তদন্তভার এসআই (নিঃ) মিঠু রায় এর উপর অর্পণ করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত), তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিঠু রায়, এসআই মোহাম্মদ আমির উদ্দিন, এসআই রনি তালুকদার, এএসআই মো. হামিদুর রহমানসহ একাধিক টিম তথ্যপ্রযুক্তি ও ম্যানুয়াল সোর্স ব্যবহার করে অভিযান শুরু করে।
পুলিশের নিরলস প্রচেষ্টায় ঘটনার মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যেই জড়িতদের সনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরে ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন. ১. মো. জাকির মিয়া (২৬), পিতা-মো. মতছির আলী, গ্রাম শ্রীপুর (নাছিরাবাদ), থানা-কুলাউড়া।
২. মো. কাওছার আহমদ (৩৪), পিতা-মো. আব্দুর রহমান, কার্তিক চন্দ্র রোড, সৈয়ারপুর। ৩. জসিম মিয়া (৩৬), পিতা-মো. নুর মিয়া, গুলবাগ (বেরিরচর), মৌলভীবাজার পৌরসভা।
গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সিলেট মহানগরীর সোবহানীঘাট এলাকার আগ্রা কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে অপহরণচেষ্টায় ব্যবহৃত সাদা রঙের প্রাইভেট কারটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, কমলগঞ্জ থানা পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ, পেশাদারিত্ব ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই অল্প সময়ের মধ্যেই এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। পুলিশের এমন কার্যক্রম জনমনে আস্থা ও নিরাপত্তা বোধ আরও বাড়াবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।