ঢাকা | মার্চ ১২, ২০২৬ - ১২:৩৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আর সততাই কাল হলো ইউএনও মাসুদ রানার

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Wednesday, April 9, 2025 - 8:51 am
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 199 বার
স্টাফ রিপোর্টারঃভোগাই ও চেল্লাখালী নদী থেকে অবৈধভাবে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে  বালু উত্তোলনের একদিকে ঢ়েমন নদীর নাব্যতা হারাচ্ছিলো,নদীর পাড় ভেঙে ও নদীর তলদেশের মাটি ১৫-২০ ফুট পর্যন্ত গভীর বোরিং করে নিচ থেকে খনিজ সম্পদ সাদা বালু উত্তোলন শুরু হয়েছিলো।
এতে করে নাব্যতা সংকটের পাশাপাশি নদী ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছিলো,এসব অবৈধ বালু বহনকারী ট্রাকের যাতায়তের ফলে স্থানীয় রাস্তা ঘাট বেহাল অবস্থা হয়ে মানুষের চলাচলের ঝুঁকি বাড়ছিলো,ঘর বাড়ী বিলীন হচ্ছিল, এমন একটা পরিস্থিতি যেনো জনগণের দুঃখ দুর্দশা দেখার কেউ ছিলো না, ঠিক সেই মুহুর্তেই নালিতাবাড়ী উপজেলায় ইউএনও হিসাবে যোগদান করলেন সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ রানা।
যিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমি (বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার) এর ৩৫ তম বিসিএস ব্যাচ এ উত্তীর্ণ হওয়া প্রশাসন ক্যাডার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা। যোগদানের পরই নালিতাবাড়ীর গণমানুষের নিরাপত্তা ও তাদের জীবন-মান উন্নয়নে কাজ করতে শুরু করেন। পরিচালনা করেন থানীয় অবৈধ বালু খেকোদের বিরুদ্ধে অভিযান। অবৈধ ড্রেজার মেশিন ভাংচুরসহ অবৈধ বালু  বালু খেকোদের জেল জরিমানা করতে থাকেন,লক্ষ একটাই মানুষের সুবিধা আর সরকারে রাজস্ব বৃদ্ধি করণ। নালিতাবাড়ীতে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বিক্রি ও মেরামত করার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিনজন ব্যবসায়ীকে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত তিনটি ড্রেজার মেশিন ও অর্ধশতাধিক পাইপ ধ্বংস করেন ইউএনও মাসুদ রানা।
শেরপুরের সাধারণ মানুষ, ভোগাই ও চেল্লাখালী নদী রক্ষায় তার এসব অভিযানে সাধারণ মানুষের মাঝে হাসি ফুটলেও পথের কাটা হয়ে দাঁড়ান বালু খেকোদের। এই অবৈধ ব্যবসায়ী ও দুর্নীতিবাজদের ষড়যন্ত্রে বদলীও হতে হয়  নালিতাবাড়ীর ইউএনও মাসুদ রানাকে।  বদলী করা হয় জামালপুরের বকশিগঞ্জে। বদলী করেই শান্ত হয়নি ওরা,সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে মামলাও করেছেন।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী আপোষহীন ইউএনও মাসুদ রানা তার চাকরী জীবনে অনেকবার
দুষ্কৃতকারী, অবৈধ ব্যবসায়ী,দুর্ণীতিবাজদের বিরুদ্ধে থাকায় তাকে যড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়েছে।  আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কখনও অবৈধ দখল উচ্ছেদে কর্দমাক্ত খালে নেমে পড়ছেন, আবার কখনও গভীর রাতে নিজ হাতে ত্রাণের খাদ্যসামগ্রী নিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামের অসহায় মায়ের দ্বারে দ্বারে কড়া নাড়ছেন। মানবতার সেবায় নির্ঘুম রাত, আর অক্লান্ত সকাল-দুপুর ছুটে চলায় ব্রত নিয়ে কাজ করাই কাল হয়ে দাড়িয়েছে  বকশিগঞ্জ  উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানার।
সবশেষে  একদল দুর্নীতিবাজ, স্বার্থান্বেষী, ভূমিদস্যু,বালুখেকো ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল একাট্টা হয়ে তাকে বদলী করােও তার নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। যা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে রীতিমতো ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, শেরপুরের ভোগাই ও চেল্লাখালি, মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীর তাওয়াকোচার  বালু মহালে অবৈধ বালু খেকোদের অবৈধ বালু লুটপাট বন্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে বালু লুটেরাদের ষড়যন্ত্র ও আন্দোলনের মুখে পড়েন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ রানা।সেই অভিযোগে তাকে  গত ১৩ ডিসেম্বর বদলির আদেশে তাকে জামালপুরের বকশিগঞ্জে বদলী করা হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভোগাই ও চেল্লাখালি, মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীর তাওয়াকোচার ৪টি বালু মহাল ইজারা দেয়া হয়। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর চেল্লাচিল্লি নদীর বুরুঙ্গা বালু মহালটি ইজারা দেয়া হয়। এর মধ্যে বুরুঙ্গা বালু মহালটি সরাসরি বিএনপি নেতাকর্মীরা নিয়ন্ত্রণ করলেও ৪টি বালু মহাল আওয়ামী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণেই পরিচালিত হচ্ছিল। সেখানে অভিযান পরিচালনা করলে অবৈধ বালু সিন্ডিকেটদের তুপের মুখে পড়েন সাধারণ মানুষের সাথে মিশে যাওয়া ইউএনও মাসুদ রানা।
এর আগে তিনি ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর ও মুক্তাগাছা উপজেলায় সহকারী কমিশনার ভূমি পদে এবং ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পদসহ বিভিন্ন জেলায় কর্মরত থেকে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তার কাজের সফলতা তাকে সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলায় ইউএনও হিসাবে পদায়ন করা হয়। বর্তমানে তিনি জামালপুর জেলার বকশিগঞ্জ উপজেলায় ইউএনও হিসাবে দায়িত্বে আছেন,এর আগে তিনি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন। প্রশাসন ক্যাডার সার্ভিসে যোগদান করার পর থেকে সরকারের সেবামূলক কার্যক্রমগুলোকে জনকল্যাণে জনগণের দোরগোড়ায় পৌছে দিতে যিনি লড়াই করে চলছেন।
 ইউএনও’ মাসুদ রানার তদারকিতে নালিতাবাড়ী  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেের চিকিৎসা সেবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,ইউনিয়ন পরিষদ, সরকারের চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের প্রায় সকল দপ্তরে  স্বচ্ছতা ফিরেছিলো নালিতাবাড়ীতে,যেকারণে প্রশাসনের  প্রতি আস্থা ফিরেছিলো সাধারণ মানুষের। কিন্তু ভূমিদস্যু-দুর্নীতিবাজ, স্বার্থান্বেষী মহলের গাত্রদাহে এই সৎ মানুষটির বিরুদ্ধে শুরু হয় নানা ষড়যন্ত্র!
নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার সন্তান নালিতাবাড়ী  উপজেলার মাটি ও মানুষের সাথে মিশে যাওয়া ইউএনও মাসুদ রানা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষাসহ দুর্নীতি মুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে  মাত্র ৭ মাসের মধ্যে নালিতাবাড়ীর জনতার ভালবাসায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন সকল প্রকার দুর্নীতি-অনিয়ম রুখে দিয়ে। অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ, খালে-বিলে পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতায় নেট-পাটা অপসারণ, হাট-বাজার, রাস্তা-ঘাটের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহলের শত্রু হলেও একের পর এক ইতিবাচক ঘটনার জন্ম দিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থার পাত্র হয়ে উঠেছিলেন তিনি।
নালিতাবাড়ীর সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা , বিগত ২০২৪ সালের ৩০শে মে থেকে ১৯ শে ডিসেম্বর পর্যন্ত  নালিতাবাড়ী উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেন। নালিতাবাড়ীতে যোগদান করেই তিনি অনিয়মের বেড়াজাল ভাঙতে শুরু করেন। প্রবহমান খালে অবৈধ নেট-পাটা অপসারণ, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ, ফুটপাত দখলমুক্ত করে সাধারণের চলাচলের পদক্ষেপ গ্রহণ করে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
নালিতাবাড়ী  উপজেলার কয়েকজন ভুক্তভোগীর সাথে কথা হলে   তারা  জানান, নিঃসন্দেহে ইউএনও মাসুদ একজন ভালো মানুষ, তিনি সঠিক কাজগুলোই করেছেন এবং দেশের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছিলেন।  তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  রোগীদের জন্য সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিলো। এমন জনবান্ধব একজন ইউএনও.র বিরুদ্ধে এমন চক্রান্তের তীব্র নিন্দাও জানান তারা।