পঞ্চগড়ে ডায়রিয়ার প্রকোপ, শিশুদের মেঝেতে চিকিৎসা
স্নিগ্ধা খন্দকার, উত্তরবঙ্গ প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ে গ্রীষ্মের তীব্রতায় বাড়ছে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা। শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্করাও আক্রান্ত হচ্ছেন এ রোগে। এতে করে জেলার হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে প্রতিদিন।
জেলার প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সেখানে ভর্তি রোগীদের পাশাপাশি বহির্বিভাগেও প্রতিদিন শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত এক মাস আগেও প্রতিদিন গড়ে ২০-২২ জন রোগী ভর্তি হলেও গত সপ্তাহে এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। জরুরি বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন ৩২ থেকে ৩৯ জন রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া প্রতিদিন বহির্বিভাগে আরও ২০-২৫ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।
রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের নারী, পুরুষ ও শিশু ওয়ার্ডে বেড সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু ওয়ার্ডে ২০-২২টি বেড থাকলেও বর্তমানে অতিরিক্ত রোগীর কারণে অনেক শিশুকে মেঝেতে বিছানা করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার জগদল বংশীগছ গ্রামের আছিমা তার ১১ মাস বয়সী শিশু মুশফিকাকে ২১ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। একইভাবে চাকলাহাট ইউনিয়নের ইয়াসমিন তার ১৯ মাস বয়সী শিশু সন্তান সাইদকে নিয়ে হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত গরমের কারণেই এসব শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে।
এছাড়া লাইলি বেগম তার শিশু সন্তান রিহানকে ২০ এপ্রিল ভর্তি করলেও এখনো সুস্থ হয়নি। অপরদিকে ফিরোজা নামের এক নারী তার ৯ মাস বয়সী শিশু মশফিকাত হাসানকে জ্বর ও পাতলা পায়খানার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
এদিকে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। যেখানে আগে প্রতিদিন ৫-৭ জন রোগী ভর্তি হতো, সেখানে বর্তমানে ১০-১২ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফুল কবির জানান, স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব, খাদ্যে বিষক্রিয়া এবং বাসি খাবার গ্রহণের কারণে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
তবে জেলার আটোয়ারী, দেবীগঞ্জ ও তেঁতুলিয়া উপজেলায় পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক রয়েছে। এসব উপজেলায় প্রতিদিন ৫-৭ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান জানান, ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। হাসপাতালগুলোতে জনবল সংকট থাকলেও পর্যাপ্ত ওষুধ ও স্যালাইন সরবরাহ রয়েছে। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও রোগীদের চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রয়েছে।








