ঢাকা | মে ৩, ২০২৬ - ৩:১০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

বোরো মৌসুমে ধান চাল সংগ্রহ সন্তোষজনক তাই বিদেশ থেকে আমদানির প্রয়োজন হবে না : খাদ্য উপদেষ্টা

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Wednesday, May 28, 2025 - 3:40 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 104 বার

আরিফ রববানী ময়মনসিংহ: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন-দেশে খাদ্য পরিস্থিতি অত্যন্ত সন্তোষজনক, যা গত বছরের তুলনায় তিন লাখ টন বেশি মজুদের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে আবাদ ভালো হয়েছে, আর যদি আমন মৌসুমও ভালো যায়, তাহলে এ বছর বিদেশ থেকে চাল আমদানির প্রয়োজন হবে না।’

বুধবার (২৮ মে) দুপুরে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে জেলা ও আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের সাথে চলতি মৌসুমের বোরো সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা, মজুদ ও বিতরণ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় খাদ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন তিনি।

খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আজকের দিনে আমাদের খাদ্য মজুদ রয়েছে ১৫ লাখ টন, যা গত বছরের তুলনায় তিন লাখ টন বেশি। আমরা এই সন্তোষজনক অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করি, কিন্তু মনে রাখতে হবে, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া-একদিকে যেমন সংরক্ষণ হচ্ছে, অন্যদিকে ক্রমাগত খরচও হচ্ছে। শুধু বোরো নয়, সামনে আসছে আউশ ও আমন ধানের মৌসুম। গত বছর বিদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে চাল আমদানি করতে হয়েছে। কিন্তু এবারের বোরো আবাদ এবং সম্ভাব্য আমন ফলন ভালো হলে আমরা নিজেদের চাহিদা মেটাতে পারব, আর বিদেশ থেকে চাল আমদানি করতে হবে না।’

মতবিনিময় সভায় ময়মনসিংহ বিভাগের বোরো সংগ্রহের ধান ও চালের লক্ষ্যমাত্রা যথাক্রমে ৪৭ হাজার ৯৩৬ মেট্রিক টন এবং ২ লাখ ২৫ হাজার ৮২৭ মেট্রিক টন। ৪৬০ টি মিলের সাথে ইতোমধ্যে ২ লাখ ২৫ হাজার ৬২৭মেট্রিক টন চাল সরবরাহের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। চুক্তি মোতাবেক মিলগুলি এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি চাল সরবরাহ করেছে। ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৫ লাখ ৫৪ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি বোরোধান উৎপাদন হয়েছে। বিভাগের খাদ্য গুদাম অর্থাৎ সিএসডি ও এলএসডি’র মোট ধারণ ক্ষমতা ১ লাখ ৬৭ হাজার মেট্রিক টন মর্মে মতবিনিময় সভায় জানানো হয়।

এছাড়াও ধান সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান ও চাল সংগ্রহ করা সম্ভব হবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

খাদ্য উপদেষ্টা আরো বলেন, দেশে বোরোধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগের জন্য দেওয়া নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান চাল সংগ্রহ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক হওয়ার পরামর্শ দেন। জেলা প্রশাসকগনকে ক্লোজ মনিটরিং করার জন্য নির্দেশনা দেন ।

তিনি বলেন,বোরো মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে সাড়ে ১৭ লাখ টন ধান ও চাল সংগ্রহ করা হবে। এরমধ্যে সাড়ে তিন লাখ টন ধান ও ১৪ লাখ টন সেদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকে প্রাইস সাপোর্ট দেওয়ার জন্য গত বছরের তুলনায় কেজিপ্রতি ৪ টাকা বৃদ্ধি করে ধান ৩৬ টাকা এবং চাল ৪৯ টাকা কেজি দরে কেনা হচ্ছে। ২৪ এপ্রিল থেকে সারাদেশে বোরো মৌসুমের ধান-চাল কেনা শুরু হয়েছে এবং এ সংগ্রহ অভিযান ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। ধান চাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে ময়মনসিংহ বিভাগের সুনাম রয়েছে।

খাদ্য উপদেষ্ঠা আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী দামে খাদ্য নিশ্চিত করতে আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে খাদ্য ভর্তুকিতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা করার পরিকল্পনা করছে । চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে খাদ্য ভর্তুকিতে বরাদ্দ রয়েছে ৮ হাজার ৫৯ কোটি টাকা। সরকার ওএমএস এবং টিসিবি মাধ্যমে খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে। আগামী অর্থবছরে এসব কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগী পরিবারের সংখ্যা ৫০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৫৫ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে মাসে ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল দেওয়া হবে। বর্তমানে এ কার্যক্রম বছরে পাঁচ মাস চালু আছে,আগামী অর্থবছর থেকে পাঁচ মাসের স্থলে ছয় মাস চালু থাকবে।

খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর বলেন, দ্রুতই চালের মজুদ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান চাল সংগ্রহ নিশ্চিত করতে হবে।

বিভাগীয় কমিশনার মো:মোখতার আহমেদ, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের আরসি ফুড এবং ডিসি ফুডদের সাথে সমন্বয় করে অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ -২০২৫ মৌসুমে ধান চাল সংগ্রহ নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করেন।

বিভাগীয় কমিশনার মোখতার আহমেদের সভাপতিত্ব মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার তাহমিনা আক্তার, ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম, শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান, জামালপুর জেলা প্রশাসক হাছিনা বেগম, নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস, আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তা আবু নাঈম মো. সফিউল আলম, ময়মনসিংহ জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদের, শেরপুর জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক ভূইয়া, জামালপুর জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান খান, নেত্রকোণা জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. মোয়েতাছেমুর রহমানসহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।