ঢাকা | মার্চ ১০, ২০২৬ - ১১:১০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

ভাঙনের মুখে পানছড়ির লোগাং অনুপম হিমাংশু ক্রীড়াঙ্গন মাঠ

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Tuesday, July 22, 2025 - 5:59 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 42 বার

আরিফুল ইসলাম মহিন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি,: খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার লোগাং ইউনিয়নের বাবুরাপাড়ায় অবস্থিত অনুপম হিমাংশু ক্রীড়াঙ্গন মাঠ বর্তমানে ভাঙনের মুখে পড়েছে। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মাঠের বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় খেলাধুলা কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মাঠটি সংস্কারের দাবি তুলেছেন স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী জনগণ, তরুণ খেলোয়াড় ও অভিভাবকরা।

২০১৯-২০২০ সালে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান প্রত্যুত্তর চাকমা স্থানীয় যুবসমাজকে মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে মাঠটি নির্মাণ করেন। মাঠটি গড়ে ওঠার পর থেকেই এখানে শীতকালীন ফুটবল টুর্নামেন্ট, নারী ফুটবল ম্যাচ, বৈসাবি উৎসবে বলি খেলা এবং অন্যান্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। প্রতিটি আয়োজন উপভোগ করতে স্থানীয়দের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে হাজারো মানুষের সমাগম হতো।

এছাড়াও মাঠটিতে প্রতিদিন স্থানীয় তরুণরা ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবলসহ বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণ করত। পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও এই মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢলের পানি জমে ভাঙন সৃষ্টি করে মাঠের একাংশ ধ্বংস করে দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ভাঙন শুরু হওয়ার পর একাধিকবার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সঠিক সময়ে সুরক্ষা দেয়াল নির্মাণ বা ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হলে মাঠটি রক্ষা পেত।

স্থানীয় খেলোয়াড় জুলেন চাকমা ও অন্যরা বলেন, “আমরা প্রতিদিন খেলতাম, কিন্তু এখন মাঠে নামতে ভয় লাগে। প্রতিদিন মাটি সরে যাচ্ছে। পুরো মাঠ ধসে গেলে খেলাধুলার আর কোনো জায়গা থাকবে না।”

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রত্যুত্তর চাকমা বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়, এটি শিশু-কিশোরদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য জরুরি। অথচ এই ভাঙন তাদের স্বপ্ন থামিয়ে দিচ্ছে।

অভিভাবকরা জানান, মাঠ না থাকায় সন্তানরা ঘরে বসে মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যতে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান জয় কুমার চাকমা জানিয়েছেন, “বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে মাঠটি আর রক্ষা করা যাবে না।”