ঢাকা | মার্চ ১০, ২০২৬ - ১২:১৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

চাপাতার ভর্তা ও আটার রুটি খেয়ে চলে চা শ্রমিকের জীবন

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Saturday, July 26, 2025 - 6:45 am
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 72 বার

রাজন আবেদীন রাজু, স্টাফ রিপোর্টার: “চাপাতার ভর্তা ও আটার রুটি খেয়ে চা শ্রমিকের দিন চলে” এই কথাটি যেন চা শ্রমিকদের জীবনের কঠিন বাস্তবতার এক প্রতিচ্ছবি।

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার পদ্মছড়া চা বাগানে প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নারী শ্রমিকরা ঘর্মাক্ত পরিশ্রমে কাটিয়ে দেন। আর দিনশেষে পেট ভরাতে হয় আটার রুটি, পান্তা ভাত কিংবা চাপাতার ভর্তার মতো অতি সাধারণ খাবার দিয়ে।

গত শুক্রবার (২৫ জুলাই) বিকেম ৩টায় পদ্মছড়া চা বাগানে দেখা মেলে এমনই এক দৃশ্যের। পাতা তোলার পর ওজন করে গাড়িতে তোলার অপেক্ষায় থাকা শ্রমিকদের সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। জানা যায়, সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত টানা কাজ করতে হয় তাদের। বাগান দূরে হলে ভোরেই রওনা দিতে হয়।

মাধবপুর চা বাগানের কয়েকজন নারী শ্রমিক জানান, সকালে সংসারের কাজ শেষ করে অনেকে কিছু খেয়ে বের হন, আবার কেউ খাবার নিয়েই দৌড়ান কাজে। দুপুরের খাবার বলতে কেউ নিয়ে আসেন চালভাজা, কেউ পান্তা ভাত, রুটি, মুড়ি, পেঁয়াজ, রসুন, শুকনো মরিচ আর লবণ। এসবের সঙ্গে চায়ের কুঁড়ি পাতা মিশিয়ে তৈরি করা হয় ‘পাতিচখা’ এক ধরনের ভর্তা, যা তাদের নিত্য দিনের মধ্যাহ্নভোজ।

চা পাতা তোলার এই কঠিন কাজটিই তাদের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। দিনে যে আয় হয়, তার বেশিরভাগ চলে যায় খাদ্য ও মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে। জীবনযাত্রার মান খুবই নিম্ন হওয়ায়, পুষ্টিকর খাবার কিংবা ভালো বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা এখনো তাদের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে।

মৌলভীবাজার জেলার ৯২টি চা বাগানের মধ্যে অধিকাংশই সিলেট বিভাগের পর্যটন নির্ভর অঞ্চলে অবস্থিত। এখানকার শ্রমজীবী মানুষগুলোর অবদান চা শিল্পে অমূল্য হলেও তাদের জীবনে এখনও অভাব-অনটনই নিত্যসঙ্গী।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাখন চন্দ্র সূত্রধর বলেন, “প্রশাসনের পক্ষ থেকে চা শ্রমিকদের সবসময় সহযোগিতা করা হয়। কেউ অসুস্থ বা সমস্যায় পড়লে আমরা তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি।”

তবে বাস্তবতা হলো, সরকারি উদ্যোগগুলো অনেক সময়েই পর্যাপ্ত নয়। তাই ‘চাপাতার ভর্তা ও আটার রুটি’ দিয়ে দিন পার করা শ্রমিকদের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে প্রয়োজন আরও কার্যকর ও টেকসই পরিকল্পনা।

চা বাগানের পেছনের এই জীবন যেন শুধু কাজের না হয় জীবনেরও হোক।