ঢাকা | মার্চ ১০, ২০২৬ - ১২:১১ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

কমলগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিলে দিশেহারা গ্রাহক

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Wednesday, September 3, 2025 - 1:47 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 191 বার

রাজন আবেদীন রাজু, স্টাফ রিপোর্টার: মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের অধীন গ্রাহকদের আগস্ট মাসের বিদ্যুৎ বিলে দেখা দিয়েছে চরম অস্বাভাবিকতা। নিয়মিত আসা বিলের দেড়গুণ থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত বিল আসায় সাধারণ গ্রাহকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অনেকেই এ বিলকে ‘ভূতুড়ে বিল’ আখ্যা দিয়ে দ্রুত প্রতিকার দাবি করেছেন।

বিল বেড়ে চরম দুর্ভোগ

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের অধীনে প্রায় ৮০ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে ২২টি চা বাগানও অন্তর্ভুক্ত। এ মাসে অধিকাংশ গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। যাদের মাসিক বিল ২০০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে ছিল, তাদের বিল এসেছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত। এতে উপজেলার সাধারণ মানুষ পড়েছেন চরম আর্থিক সংকটে।

গ্রাহকদের অভিযোগ

স্থানীয় বাসিন্দা সিহাব উদ্দিন বলেন, “আমার প্রতিবেশির মিটারে রিডিং দেখা গেছে ১৩২০ ইউনিট। অথচ বিল করা হয়েছে ১৪০০ ইউনিট। এভাবে দেড়গুণ থেকে দ্বিগুণ বিল আদায় করা হচ্ছে।”

ভানুগাছ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কেশব পাল বলেন, “গত দুই মাস ধরে আমার বাড়িতে অস্বাভাবিক বিল আসছে। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ করলে এক কর্মকর্তা রিডিংম্যানকে ডাকেন। তখন রিডিংম্যান জানান, অসুস্থ থাকার কারণে আমি আনুমানিক রিডিং দিয়েছি। এতে আমি ক্ষুব্ধ হলেও কর্মকর্তারা শুধু আশ্বাস দিয়েছেন, এখনো কোনো সমাধান হয়নি।”

চা বাগান এলাকার বাসিন্দা চঞ্চল গোয়ালা বলেন, “গত মাসে ২০০ টাকা বিল দিয়েছি, এ মাসে এসেছে ১ হাজার ৪০০ টাকা। এমনকি কারও কারও বিল কয়েক হাজার টাকায় পৌঁছেছে।”

গ্রাহক বিশাল মিয়া বলেন, “কম বিল আসবে ভেবে বাড়িতে দুটি মিটার লাগিয়েছিলাম। কিন্তু এখন উল্টো আগের চেয়ে বেশি বিল দিচ্ছি।”

রাজ্জাক নামে আরেক ভুক্তভোগী জানান, “অফিসে অভিযোগ করলে বলা হয়, আগামী মাসে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু সমস্যা থেকে যাচ্ছে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ন্যাশনাল টি কোম্পানির একজন ব্যবস্থাপক জানান, “আমার বাগানের শ্রমিকদের বিলের অস্বাভাবিকতা নিয়ে লিখিতভাবে জানিয়েছি। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”

কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা

অভিযোগের বিষয়ে কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার রঞ্জন কুমার ঘোষ বলেন, “এ বছর প্রচণ্ড গরমের কারণে দিন-রাত ফ্যান চলেছে। তাই কিছু গ্রাহকের বিল বেড়ে থাকতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে রিডিং সঠিকভাবে না নেওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। ইতোমধ্যে একজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

প্রতিকার চান গ্রাহকরা

অভিযোগকারীরা বলছেন, এ অস্বাভাবিক ‘ভূতুড়ে বিল’ তাদের জন্য ক্রান্তিকালে মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও কার্যকর প্রতিকার দাবি করেছেন।