মাদ্রাসা-কবরস্থানের সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতকারী জামায়াত নেতা আইনুলের শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন
স্টাফ রিপোর্টারঃময়মনসিংহ সদরের ভাবখালী ইউনিয়নে বিভিন্ন এতিমখানা, কওমি মাদরাসা, হাফিজিয়া মাদরাসা এবং কবরস্থানের নামে সরকারি বরাদ্দ নিয়ে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে এসব সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে স্বঘোষিত জামাত নেতা আইনুল হক ও তার সহকারী নজরুল ইসলাম সহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমোলক শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসী। মানববন্ধনে তারা অবিলম্বে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে শাস্তির দাবী করেন।
মঙ্গলবার (২৩সেপ্টেম্বর) দুপুরে জোহরের নামাজের পর উপজেলার ভাবখালী বাজারে ১২নং ভাবখালী ইউনিয়নের সচেতন নাগরিক ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বলা হয়- ময়মনসিংহ জেলা পরিষদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব বাজেটের ‘জনস্বাস্থ্য’ উপখাতে ৪৭টি প্রকল্পে মোট ৮৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে সদর উপজেলার ভাবখালী ইউনিয়নে ৩৫ লাখ টাকার ১৭টি প্রকল্প নেয়া হয়। যার নেপথ্যে রয়েছে আইনুল হক। একজনের নামে একাধিক, অস্তিত্ববিহীন প্রতিষ্ঠান এবং আবেদন না করেও অনেক প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ এনে একাই আত্মসাৎ করেছে আইনুল। পারিবারিক কবরস্থানকে সামাজিক কবরস্থান বলেও বরাদ্দ নেয়ার রেকর্ড রয়েছে তার। অভিযোগ তুলেন-বরাদ্দপত্রের ৪৫ নম্বরে থাকা ‘জামিয়া হাজেরা মহিলা মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি সোলাইমান হুসাইন। তিনি বলেন- তার মাদ্রাসার নামে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। অথচ তিনি কোনো বরাদ্দের জন্য আবেদনই করেননি।
বরাদ্দ নম্বর ৪৩: ‘রাবেয়া বসরী মহিলা মাদ্রাসা’, ৬০: ‘সায়্যিদাতুন নিসা ফাতেমা রা. মহিলা মাদ্রাসা’, ৫৬: ‘ভাবখালী ইউনিয়নের চুরখাই মধ্যপাড়া জামিয়া ইসলামিয়া মহিলা কওমী মহিলা মাদ্রাসা’। যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে ২লক্ষ টাকা করে সরকারি ভাবে বরাদ্দ হলেও কর্তৃপক্ষ কোন টাকা পাননি। এভাবে নামে-বেনামে ১৭ প্রকল্পের ৩৫ লক্ষ টাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর জালিয়াত করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
রাবেয়া বসরী মহিলা মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা এনামুল হক বলেন, ‘বরাদ্দের বিষয়ে আমি জানতাম না, আইনুল,সায়্যিদাতুন নিসা ফাতেমার পরিচালক মাওলানা আবদুল জব্বার জানান- এলাকার আলোচনা চলার পর তারা জানতে পারেন তার মাদ্রাসার নামেও ২ লাখ টাকা করে বরাদ্দ হয়েছে; একই অভিযোগ করেন জামিয়া ইসলামিয়া মহিলা মহিলা মাদ্রাসা’র পরিচালক মুফতী এনামুল হাসান,আহছানুল উলূম নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আশরাফুল আনোয়ারসহ আরো অনেকে। নামে-বেনামে ১৭টি প্রকল্পের মোট ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে জানিয়ে তারা জনগণের উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ এ অর্থ আত্মসাৎকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
মানববন্ধনে মহানগর জামায়াতের মজলিসে শুরার সদস্য ডা: আসাদুজ্জামান আসাদ,কোতোয়ালি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আব্দুর রাজ্জাক মিলন,,ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ফারুক হোসাইন,বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মেহেদী হাসান সহ ইউনিয়নের সরকারী বরাদ্ধ বঞ্চিত এসব মাদ্রাসার শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে কোতোয়ালি বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আব্দুর রাজ্জাক মিলন বলেন-ভাবখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসা, গোরস্থানের নামে বেনামে ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ এনে আত্মসাৎ করেছে আমাদের ভাবখালী এলাকার জামায়াতের লেবাসধারী আইনুল হক। সে নিজেকে জামায়াত নেতা পরিচয় দিলেও আগে কি করতো আমরা জানিনা,সে ১৭টি প্রকল্পের বিপরীতে ৩৫ লক্ষ টাকা কিভাবে আনলো তার সাথে আরো যারা রাঘববোয়ালরা জড়িত আছে তিনি সকলকে বিচারের আওতায় আনার দাবী জানান।
তবে মহানগর জামায়াতের মজলিসে শুরার সদস্য ডা: আসাদুজ্জামান আসাদ তার বক্তব্যে জানান-আমার বাড়ী, আমার জন্মস্থান ভাবখালী ইউনিয়নে, আইনুল জামাতের কেউ না,৫আগস্ট প্রেক্ষাপটের পর জামায়াতে জয়জয়কার অবস্থা দেখে সে নিজেকে জামায়াতের পরিচয় দিলে দিতেও পারে, তবে জামাযাত কোন দুর্ণীতিবাজদের প্রশ্রয় কখনো দেয়না।
মাদ্রাসা শিক্ষকদের অভিযোগ করেন- আওয়ামী সরকারের অধীনে গত ২০২৪ সালের আমি- ডামি নির্বাচনে সদরের ডামি প্রার্থী আমিনুল হক শামীমের সাথে স্থানীয় আমজাদ মাষ্টারের ছেলে রাকিবের মাদরাসায় মিটিং করে শামীমের ট্রাক প্রতীকের নির্বাচনের প্রচার করে তার কাছে অনুদান চেয়ে তার গুনগান প্রচার করে। আর আমরা সেই মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলাম না বলে আমাদের কে শাশিয়ে এখন ৫ ই আগষ্টের পরে সে নাকি (আইনুল) জুলাই যুদ্ধা আর
জামাযাতে ইসলামের কর্মী। আর আমরা হয়ে গেলাম বিভিন্ন ট্যাগের শিকার।আমাদের বিভিন্ন ভাবে ট্যাগ দিয়ে দুরে শরিয়ে সে জুলাই যুদ্ধা আর জামাতের কর্মী পরিচয় দিয়ে দুর্নীতির পাহাড় গড়েছে।আমরা তার এবং তার সহযোগীদের গ্রেফতার চাই এবং তাদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি চাই। যাতে করে ভবিষ্যতে কেও কোন দলের নাম বিক্রি করে দুর্নীতি না করতে পারে। দুর্নীতি বাজ দের কোন জাত ধর্ম নাই এরা বাটপার সিটার প্রতারক দুর্নীতি বাজ এটাই তাদের আসল পরিচয়।।
মানববন্ধনে অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন- মুফতি নূরে আলম কাসেমী,মুফতি মুস্তাফা কামাল
মাও মোবারক হুসেন,মুফতি রহমতুল্লাহ
মুফতি সুলাইমান হুসাইন প্রমুখ।








