সখীপুরে শ্রমিকদল নেতার বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণের অভিযোগ
শরিফুল ইসলাম বাবুল, সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের সখীপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া ৮ বছরের এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি উপজেলার দাড়িয়াপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম আহবায়ক ও সিএনজি চালক মো. ফজলু(৩৫)।ফজলু প্রতীমাবংকী পশ্চিম পাড়া এলাকার আমজাদ আলীর ছেলে।
দাড়িয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নজরুল ইসলাম ও ওই মাদ্রাসার শিক্ষক জোবায়ের হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার প্রতীমাবংকী পশ্চিম পাড়া এলাকায় ওই মাদ্রাসা শিক্ষার্থী মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকাল সাতটার দিকে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে ধর্ষণের শিকার হয়। মাদ্রাসার কাছাকাছি সড়কের পাশে একটি জঙ্গলে শিশুটিকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় ফজলু। শিশুটি সেখান থেকে মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক ও অন্য এক অভিভাবককে ঘটনা খুলে বললে তাৎক্ষনিক শিশুটির পরিবারকে ও পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে শিশুটিকে বাড়ি থেকে উদ্ধার করে প্রথমে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।অভিযুক্ত শ্রমিক দল নেতা ফজলু সম্পর্কে ওই শিশুটির চাচাত মামা। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ফজলু পলাতক রয়েছেন বলে জানা যায়।
শিশু ধর্ষণের এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চরম সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। একাধিক স্ট্যাটাসে দেখা যায়, সকলেই অভিযুক্ত ফজলুকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন।
ইতোমধ্যে শ্রমিক দলের প্যাডে উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মো. মতিন মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মো. বাবুল মিয়া স্বাক্ষরিত একটি বহিস্কারাদেশও প্রচার হয়েছে। ওই চিঠিতে দেখা যায় ধর্ষণের অভিযুক্ত মো. ফজলু উপজেলার দাড়িয়াপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্ব ছিলেন। চিঠির মাধ্যমে তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ওই শিশুর মা বাদী হয়ে আজ দুপুরে সখীপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।
উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মো. মতিন মিয়া বলেন, ফজলু দাড়িয়াপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের একটি পদে ছিল। কিন্তু আজকে খুবই অমানবিক একটি খবর শোনার পরে আমরা তাকে সকল পদ থেকে বহিষ্কার করেছি। এমন ঘৃণিত অপরাধের সাথে জড়িত কেউ সংগঠনে থাকার অধিকার রাখে না। আইনানকভাবে আমরাও তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।
সখীপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ মামলা হয়েছে। শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে। আসামি গ্রেফতারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
সখীপুর, টাঙ্গাইল
১৪.১০.২৫
০১৭১৮৩৮৩৬৮২








