ঢাকা | মে ৯, ২০২৬ - ৩:২৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

জামাত নেতা ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Wednesday, October 15, 2025 - 11:39 am
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 52 বার

স্নিগ্ধা খন্দকার, স্টাফ রিপোর্টারঃ ভুয়া বিয়ের নাটক সাজিয়ে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া বাজারে “মাড়েয়া এলাকাবাসী” ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগী ছাত্রী ফাতেমা আক্তার, তার পরিবারসহ কয়েকশ নারী-পুরুষ অংশ নেন। বক্তৃতা করেন ফাতেমার মা, প্রতিবেশী নারী এবং শিক্ষার্থীরা।

বক্তারা অভিযোগ করেন, দেড় বছর প্রেমের সম্পর্কের পর ফকিরপাড়া গ্রামের ইয়াসিনের ছেলে শাকিল একটি ভুয়া বিয়ের নাটক সাজিয়ে ফাতেমাকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক নিয়ে যায়। এরপর থেকে শাকিল ও তার পরিবার ফাতেমার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। প্রতিবাদ করলে শাকিলের চাচা, স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইয়াকুব আলীর সহযোগিতায় আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয় ফাতেমাকে।

পরবর্তীতে শাকিলের পরিবার উল্টো ফাতেমার বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করে। আদালতে হাজিরার পর দুই দিন কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান ফাতেমা।

বর্তমানে শাকিল ও তার পরিবার ফাতেমাকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। উপায়ান্তর না পেয়ে ফাতেমা ন্যায়বিচারের আশায় এলাকাবাসীর সহযোগিতা চান। এরই প্রেক্ষিতে এলাকাবাসী শাকিল, তার পরিবার এবং জামাত নেতা ইয়াকুব আলীর বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “বিয়ের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর শাকিল যদি ফাতেমাকে অস্বীকার করে, তাহলে তার জীবন ধ্বংস হয়ে যাবে।”

অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে ফাতেমা বলেন,
“বিয়ের পর থেকেই শাকিলের মা–বাবা আমার সঙ্গে অমানবিক আচরণ শুরু করেন। তার মামি বলত, ‘মরে যা, ফাঁসি লাগা ভালো।’ তার চাচা, জামাত নেতা ইয়াকুব আলী, আমাকে জবাই করে দেওয়ার হুমকি দেন। আমাকে খেতে দিত না, বাথরুমে যেতে দিত না। গরিব মা–বাবার কাছ থেকে বারবার টাকা চাওয়া হতো। আমি স্বাক্ষর না করায় আমার নামে ডিভোর্স লেটার পাঠানো হয় এবং পুলিশ দিয়ে আমাকে ধরে নেওয়া হয়। এখন আমি জানি না কোথায় যাব, কী করব। তাই ন্যায়বিচারের আশায় মানববন্ধনে নেমেছি।”

মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং বিচার না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেন।

এ বিষয়ে জামায়াত নেতা ইয়াকুব আলী সাংবাদিকদের বলেন,
“আমি একটি মিটিংয়ে আছি, দুঃখিত—এই মুহূর্তে কথা বলতে পারব না।”

বিয়ের কাজী, নীলফামারী জেলার কাজী আব্দুল মজিদ জানান,
“আমি এখন কিছু বলতে পারব না। আসেন, সাক্ষাতে কথা হবে।”