ঢাকা | মার্চ ১১, ২০২৬ - ৯:২৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

ঐতিহ্যের রঙে রঙিন ‘খাসি সেং কুটস্নেম’: কমলগঞ্জে খাসিয়াদের বর্ষবরণ উৎসব

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Saturday, November 22, 2025 - 2:33 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 169 বার
রাজন আবেদীন রাজু, স্টাফ রিপোর্টার:
নাচে-গানে, রঙিন পোশাকে আর উৎসবমুখর পরিবেশে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে উদযাপিত হলো খাসিয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ‘খাসি সেং কুটস্নেম’ উৎসব। ১২৬তম বর্ষকে বিদায় জানিয়ে ১২৭তম বর্ষকে বরণ করে নেয় খাসিয়া জনগোষ্ঠী। সিলেট অঞ্চলের প্রায় অর্ধশত খাসিয়া পুঞ্জি থেকে আগত প্রতিনিধিরা এতে অংশগ্রহণ করেন।
এবারের সেং কুটস্নেম উৎসবটি শনিবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় কমলগঞ্জের মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জিতে। বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ উপলক্ষে সকাল থেকে পুঞ্জি জুড়ে ছিল ব্যাপক উৎসবমুখরতা। বাঙালি, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ, দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবটি পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।
ঐতিহ্যের রঙে ভরপুর উৎসব
ব্রিটিশ শাসন আমল থেকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে ২৩ নভেম্বর পালিত হয়ে আসছে খাসিয়াদের বর্ষবিদায় অনুষ্ঠান ‘খাসি সেং কুটস্যাম’। তবে স্থানীয় বিভিন্ন কারণ বিবেচনায় এবার ২২ নভেম্বর মাগুরছড়া পুঞ্জিতে আয়োজিত হয় উৎসবটির খাসিয়া ভাষার রূপ ‘খাসি সেং কুটস্নেম’।
উৎসবে উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের কো-চেয়ারম্যান ও পুঞ্জি প্রধান জিডিসন প্রধান সুচিয়াং, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাখন চন্দ্র সূত্রধর, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব), এনসিপি শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ আসনের প্রার্থী প্রীতম দাশসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আয়োজক কমিটি সকল পুঞ্জি প্রধানকে পাগড়ি পরিয়ে সম্মাননা প্রদান করেন এবং অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেন।
নাচ গানে ইতিহাসের পুনর্জাগরণ
খাসিয়া সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে প্রাচীন পাহাড়ি নৃত্য পরিবেশন করেন। জুম চাষ, জীবিকার নানা কৌশল ও দৈনন্দিন জীবনের নানা দিক আকর্ষণীয় নৃত্যে তুলে ধরা হয়। তাদের আদিবাসী বাদ্যযন্ত্রের সুরে মেতে ওঠে পুরো পুঞ্জি।
উৎসব উপলক্ষে খাসি সোশ্যাল কাউন্সিল নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে। দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে ছিল মাছ শিকার প্রতিযোগিতা, ঐতিহ্যবাহী খেলা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও পাহাড়ি খাবারের আয়োজন।
মেলায় ছিল বাহারি পণ্যের সমাহার
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ঐতিহ্যগত মেলা। মাঠজুড়ে খাসিয়ারা সাজিয়ে রাখেন তাদের নিজস্ব পণ্য ঐতিহ্যবাহী পোশাক, পান, বাঁশ-বেতের জিনিসপত্র, তীর-ধনুকসহ নানা সামগ্রী। দর্শনার্থীরা মেলা ঘুরে খাসিয়া সংস্কৃতির রঙিন ঐতিহ্য প্রত্যক্ষ করেন।
সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি
আলাপকালে বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের কো-চেয়ারম্যান ও মাগুরছড়া পুঞ্জি প্রধান জিডিসন প্রধান সুচিয়াং বলেন,
“সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও আদিবাসীদের অধিকার বাস্তবায়নে সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা রয়েছে। আমাদের প্রাচীন সংস্কৃতি বিশ্বময় ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান নিয়েই আমরা ‘খাসি সেং কুটস্নেম’ উৎসব পালন করি।”
অতিথিদের উপস্থিতি, নাচ গান, ঐতিহ্যবাহী খাবার আর আবহমান সংস্কৃতির সুগন্ধে খাসিয়া পুঞ্জির মাঠ যেন রূপ নেয় এক বর্ণিল উৎসবে। এভাবেই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে নতুন বর্ষকে বরণ করে নেয় খাসিয়া জনগোষ্ঠী।