ঢাকা | মার্চ ১০, ২০২৬ - ৬:৫৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিয়ে আমার আগ্রহ রয়েছে-ডি’অ্যাডাম

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Monday, December 8, 2025 - 12:29 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 126 বার

অস্ট্রেলিয়া প্রতিনিধি : নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টের সদস্য অ্যান্থনি ডি’অ্যাডাম বলেন, ‘আমি হয়তো কিছুটা ভিন্ন বা বিতর্কিত একটি অবস্থান থেকে কথা বলতে চাই। গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিয়ে আমার আগ্রহ রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া হোক বা বিশ্বের অন্য কোনো দেশ—গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখা সবসময়ই একটি চ্যালেঞ্জ।’

“আমাদের এই সমস্যাটি একটি নীতিগত জায়গা থেকে দেখা প্রয়োজন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ সংঘাত শেষে বিশ্বনেতারা একটি নতুন আন্তর্জাতিক কাঠামো তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেটি ছিল ‘মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণা’  এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক চুক্তির ওপর ভিত্তি করে তাঁরা কার্যকরভাবে মানবাধিকারকে ঘিরে একটি আদর্শ বা ‘নর্ম’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন—এই বিশ্বাসে যে, মানবাধিকার একটি মৌলিক অধিকার যা বিশ্বের প্রতিটি মানুষের ভোগ করা উচিত।”

গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মুবাশ্বার হাসান বলেন, ‘আমি দুটি বিষয় নিয়ে কথা বলে শেষ করতে চাই। প্রথমত, আমাদের গুরুত্বের সাথে ভাবতে হবে যে, ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের সাথে আমরা আচরণ কি হবে, আমরা হয়তো সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে পারি, কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা কী? আমরা ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর কোনো সহিংসতার চক্র দেখতে চাই না।

দ্বিতীয়ত, অস্ট্রেলিয়ান সরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যখন বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে কাজ করে, তখন তাদের আরও সতর্ক হওয়া উচিত। আমাদের করের টাকা যেন এমন কোনো ব্যক্তিকে অর্থায়ন না করে যারা গুম বা গোপন কারাগার (আয়নাঘর) পরিচালনার সাথে জড়িত ছিল। আমাদের লক্ষ্য হলো একটি গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী সমাজ গঠন করা। বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যা আইনের শাসন এবং স্বাধীন বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।”

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লিমা আক্তার বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার দুটি দিক নিয়ে কথা বলব: ১. শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞা এবং ২. প্রতিরোধমূলক নিষেধাজ্ঞা । যদি কোনো রাজনৈতিক দল গণহত্যা বা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়, তবে তাদের নিষিদ্ধ করা গণতন্ত্রের ওপর আঘাত নয়, বরং এটি আইনের শাসনের বাস্তবায়ন। নুরেমবার্গ ট্রায়াল এবং জার্মান আইনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য—যারা গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে গণতন্ত্রকেই ধ্বংস করতে চায় (যেমন হিটলারের নাৎসি পার্টি)—তাদের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।”

অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ কমিউনিটির সিনিয়র সহসভাপতি এএফএম তাওহীদুল ইসলাম আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অস্ট্রেলিয়ার একটি বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর কথা  বলেন,। র্যা বকে বিলুপ্ত করার আহ্বান এবং অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্য বানিজন্য আরও বেশি সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

‘শিক্ষাক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার উঁচু সারির  বিশ্ববিদ্যালয় এবং কারিগির কলেজ (TAFE) গুলোকে বাংলাদেশের তাদের ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের আহ্ববান জানান। ফেসিবাদ সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যিক্ত যেন অস্ট্রেলিয়াকে (SAFE HAVEN)বা নিরাপদ আবাসস্থল বানাতে না পারে তার জন্য অস্ট্রেলিয়ান সরকারকে কঠিন পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্ববান  জানান।

পাচারকৃত অর্থ এবং সম্পদ বায়জাপ্ত করে বাংলাদেশ সরকারকে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অস্ট্রলিয়ার প্রভাবশালী সিনেটর ডেভিড শোবারিজের সঞ্চালনার পুরো অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সিডনিস্ত বাংলাদেশ কমিউনিটির গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মুহুর করতালির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ান এই রাজনীতিবিদদের বাংলাদেশের প্রতি  তাদেরে বন্ধুত্ব, সহযোগিতা এবং সহমর্মিতার জন্য ইৎসাহিত করেন।