ময়মনসিংহ সদরে নতুন বই পেয়ে উচ্ছ্বসিত প্রাথমিকের ৯৬ হাজার ৭২০শিক্ষার্থী
আরিফ রববানী ময়মনসিংহ:নতুন বছরের প্রথম দিনে নতুন বই হাতে পেয়ে আনন্দে উচ্ছ্বসিত ময়মনসিংহ সদরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা রঙিন মলাটের বই বুকে জড়িয়ে ধরেছে, কেউ কেউ খুশিতে উল্টে দেখছে পাতা।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি স্কুল ঘুরে দেখা যায়, শীতের কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস উপেক্ষা করেই শিশুরা স্কুলে এসেছে বই নিতে
তবে এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনও জাঁকজমকপূর্ণ ‘বই উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়নি।
সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই স্কুলে ভিড় জমাতে শুরু করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। আনুষ্ঠানিকতা শেষে নতুন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট শিট যাচাই করে শিক্ষকরা হাতে তুলে দিচ্ছেন নতুন পাঠ্যবই।
প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সকালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই বিতরণ করা হয়। বেলা ১১টার পর তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই দেওয়া হচ্ছে।
নতুন বই পেয়ে শিশুদের মধ্যেও দেখা গেছ ব্যাপক উচ্ছ্বাস। তবে প্রাথমিকের এই আনন্দের চিত্রটি সব জায়গায় এক নয়। মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে দেখা গেছে ভিন্ন বাস্তবতা। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শতভাগ বই পৌঁছালেও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে চাহিদামতো বই না আসায় শিক্ষার্থীরা বই পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে। কোথাও একজন শিক্ষার্থী পেয়েছে দুটি বই, কেউ পেয়েছে তিনটি, আবার কেউ এখনো একটিও পায়নি।
এবারের বই বিতরণে নেই কোনো উৎসব বা আনুষ্ঠানিকতা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর মধ্যেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অন্তর্বর্তী সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় শোক পালনের কারণে বই বিতরণকালে সব ধরনের উৎসব ও অনুষ্ঠান পরিহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আনুষ্ঠানিকতা না থাকলেও বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌছে দেওয়া হচ্ছে কিনা তা যাচাই করতে সকাল থেকেই নওমহল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,চশমে রহমত মরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বই বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌসী হ্যাপী, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীনসহ বিভিন্ন ক্লাস্টারে নিয়োজিত সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারগণ।
উপজেলার ভাবখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান (শুভ) উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলে, আজ নতুন বই হাতে পাব এই আনন্দে ভোর বেলাতেই ঘুম থেকে উঠে গিয়েছি। নতুন বই পেয়ে খুব ভালো লাগছে।
৫ম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হওয়া বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী নতুন বই হাতে পেয়ে বলে, বছরের প্রথম দিন নতুন বই নিতে পেরে আমি খুবই খুশি।
মেয়ের বইয়ের ব্যাগ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক শিক্ষার্থীর মা বলেন, এ আনন্দ প্রকাশ করার নয়। ছেলে-মেয়ে যখন নতুন শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয় তখন যেমন আনন্দ তেমনি আনন্দ হয় তাদের নতুন বই হাতে পাওয়ার পরও। আজও তেমন আনন্দ হচ্ছে। মেয়ের ভবিষ্যৎ যেন উজ্জ্বল হয় সেই দোয়া করবেন।
ভাবখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিলুফার রহমান স্বপ্না বলেন, নতুন বই শিশুদের জন্য সরকারের নতুন বছরের উপহার। নতুন বই শিশুকে উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত করে। নতুন বইয়ের ঘ্রাণ শিশুকে বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট করে তোলে। বইয়ের প্রতিটি পৃষ্ঠা শিশুর মনোজগতে বিস্ময় তৈরি করে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাদ্দাম হোসেন জানান, এ বছর উপজেলার সরকারী, কিন্ডার গার্ডেন (কেজি),প্রাক প্রাথমিক, উচ্চ বিদ্যালয়সহ প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ সর্বমোট ৫৪২ টি বিদ্যালয়ের মোট ৯৬ হাজার ৭২০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৪লাখ ৭৩ হাজার ৬শত ২৮টি নতুন বই দেওয়া হয়েছে। এর মাঝে ১৮৬টি
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এর তথ্য অনুযায়ী, নতুন শিক্ষাবর্ষে সারাদেশে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য প্রাথমিক স্তরে মোট পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা ৮ কোটি ৫৯ লাখের বেশি। এর মধ্যে শতভাগই সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই সব বই পাচ্ছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে কিছু বইয়ের সংকট থাকলেও এনসিটিবি সূত্রে জানা যায়, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা সব বই হাতে পাবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন আশা প্রকাশ করেন, নতুন বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে। তারা আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে এবং সমাজ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।








