ঢাকা | মে ১, ২০২৬ - ৪:১২ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

ময়মনসিংহ-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রফেসর ড এ আর খানকে ঘিরে ষড়যন্ত্রে হতাশ ভোটাররা

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Wednesday, January 7, 2026 - 6:41 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 319 বার

স্টাফ রিপোর্টার: ময়মনসিংহ-৯ ( নান্দাইল) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রফেসর ড এ আর খানকে ঘিরে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের হাওয়া বইছে। তার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও জনসম্পৃক্ততায় অস্বস্তিতে পড়ে একটি প্রভাবশালী মহল তাকে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর সেই কৌশল অবশ্য যাচাই বাছাইয়ে কিছুটা সফল হয়েছে প্রতিপক্ষরা। ক্রেডিট কার্ডের সামান্য বিলকে ঋণ খেলাপি দেখিয়ে বাতিল করা হয়েছে তার প্রার্থীতা। তবে যাচাই বাছাই এর আগে কিছু মিডিয়া তাদের প্রকাশিত সংবাদে তাকে বৈধ প্রার্থী হিসাবে দাবী করেছিলো,পরবর্তীতে বাছাইয়ে তিনি অবৈধ প্রার্থী হিসাবে বাতিল হন। এনিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে- তাকে বাছাই এর আগে কিভাবে সংবাদপত্রে বৈধ প্রার্থী বলা হলো? আর যদি বৈধ হয়ে থাকে পরবর্তীতে কার ইশারায় বাতিল করা হলো?

স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রফেসর ড এ আর খান মাঠপর্যায়ে যে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করছেন, তাতে তার প্রতিদ্বন্দ্বী মহল স্পষ্টতই অস্থির। বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও শিক্ষিত পেশাজীবীদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বাড়ছে।এই উত্থান ঠেকাতে কিছু মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা শুরু করেছে—যেখানে তাকে আওয়ামী লীগ নেতা হিসাবে ট্যাগ লাগানো হয়েছে। অথচ প্রফেসর ড এ আর খান একজন শিক্ষক। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করেন তিনি। প্রফেসর ড এ আর খান কখনোই আওয়ামী লীগ বা তাদের সহযোগী সংগঠনের কোনো পদে ছিলেন না—না জেলা পর্যায়ে, না উপজেলা পর্যায়ে। বরং রাজনীতি ও জনসেবার প্রতি তার আগ্রহ দীর্ঘ দিনের হলেও, আওয়ামী শাসনামলেই তিনি একাধিকবার রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মাঠে থাকলেও পরবর্তীতে সে সময়েও ষড়যন্ত্র করে তার প্রার্থীতা বাতিল করে তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যখন ছাত্রদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়, তখন তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি সেই ছাত্রদের নিজ বাসায় আশ্রয় দেন। তার এই মানবিক পদক্ষেপটি পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদ পত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে আওয়ামী লীগ নেতা হিসাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যেন বোঝানো যায় তিনি আওয়ামী লীগপন্থী। নির্বাচন থেকে সরাতে প্রতিপক্ষের এমন কৌশলগত ষড়যন্ত্রে হতাশ হয়েছেন নান্দাইলের বিভিন্ন পেশাশ্রেণীর ব্যক্তিবর্গরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই কৌশল নতুন নয়। এর আগেও সারজিস আলম ও ভিপি নুরুল হক নুরের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতিতে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছিল। সমালোচনা চলছে- আওয়ামী লীগের রাজনীতি করা যদি কারো জন্য দোষের কিছু হয় তাহলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) সংগঠক সার্জিস আলম একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন তাহলে উনি নির্বাচন করতে পারলে প্রফেসর ড এ আর খানের দোষ কোথায়? প্রফেসর ড এ আর খানতো কখনো আওয়ামী লীগের কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মিটিং মিছিল করেনি।

সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা ময়মনসিংহ-৯ আসনের জন্য খুঁজছেন একজন সৎ, গ্রহণযোগ্য ও স্থানীয়ভাবে আস্থাভাজন স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের বিকল্প কোন প্রার্থীকে। সেই জায়গায় স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষ হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন আচারগাঁও ইউনিয়নের আচারগাঁও গ্রামের বিশিষ্ট সমাজ সেবক
আব্দুল আজিজের ছেলে প্রফেসর ড এ আর খান। তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করেন। একজন শিক্ষক প্রতিনিধি হিসাবে তার প্রার্থীতা তার নাম টক অব দ্যা আসনে পরিণত হয়েছে।

নান্দাইলের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে- আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৯ আসনে যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে সেখানে জনগণের মনোনীত স্বতন্ত্র এই প্রার্থী- একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত নাম হয়ে উঠছেন। একজন শিক্ষিত মেধাবী প্রার্থী হিসাবে প্রফেসর ড এ আর খানের প্রার্থীতায় নান্দাইলের আওয়ামী লীগের ভোটাররা দাঁড়িপাল্লা বা ধানের শীষে ভোট দিবেন না , তারা হয়তো বেছে নিবেন প্রফেসর ড এ আর খানকে, আর এই সেজন্যই ষড়যন্ত্র করে তার প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এ ব্যাপারে প্রফেসর ড এ আর খান বলেন-
“স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার—এই বিশ্বাস থেকেই আমি প্রচার শুরু করেছি। আমি চাই, মানুষ দল নয়, প্রার্থীকে বিচার করুক। প্রচারপত্রেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছি—আমি চাইলে নিবন্ধিত কোনো দলের মনোনয়ন নিয়েও নির্বাচন করতে পারতাম, তবে জনগণের রায়ই আমার আসল শক্তি।”

তিনি আরও বলেন,“ফেসবুকে ছবি বিকৃতি, ট্যাগ লাগানো বা গালাগালি দিয়ে কাউকে থামানো যায় না। আল্লাহ যার ইজ্জত রাখেন, তাকে কেউ হেয় করতে পারে না। সম্মান ও মর্যাদা একমাত্র আল্লাহর দান।”

তিনি জানান-মনোবয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করবেন। বৈধ প্রার্থী হিসাবেই নান্দাইলবাসীর সামনে গিয়ে ভোট ও দোয়া চাইবেন।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, তিনি জনগণের আস্থা অর্জন করতে পেরেছেন, যা তাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের মূল টার্গেটে পরিণত করেছে।

ময়মনসিংহ-৯ আসনের রাজনীতি বর্তমানে উত্তপ্ত। স্বাধীনভাবে জনগণের আস্থা নিয়ে এগিয়ে আসা এক তরুণ শিক্ষকের জনপ্রিয়তা যে কিছু প্রভাবশালী মহলের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তারই বহিঃপ্রকাশ এই প্রচারণা ও ষড়যন্ত্র।

তবে প্রফেসর ড এ আর এখনও দৃঢ় কণ্ঠে বলছেন—
“জনগণের ভালোবাসা ও বিশ্বাসই আমার শক্তি। সত্য ও ন্যায়ের পথে থাকলে জয় নিশ্চিত হবেই ইনশাআল্লাহ।