বিটিসিএল কলোনীর সরকারি কোয়ার্টার নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ
বিশেষ প্রতিনিধিঃ রাজধানীর বনানীর কড়াইল এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) কলোনীর একাধিক সরকারি কোয়ার্টার ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও ভাড়া বাণিজ্য চলার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, টেলিযোগাযোগ শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক মহাসচিব মোঃ খোরশেদ আলম এবং সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মিল্টন মিয়ার নাম এসব অভিযোগে উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের সংশ্লিষ্টতা বা তত্ত্বাবধানে বিটিসিএল কলোনীর অন্তত ৮ থেকে ১০টি সরকারি কোয়ার্টার বহিরাগতদের কাছে অবৈধভাবে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব কোয়ার্টার থেকে নিয়মিত ভাড়া আদায়ের দায়িত্বে রয়েছেন বিটিসিএলের আইটি অ্যান্ড বিলিং শেরেবাংলা নগর শাখায় কর্মরত বার্তাবাহক মোঃ শহীদুল ইসলাম। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ক্যাশিয়ার হিসেবে ভাড়া সংগ্রহ করে থাকেন।
এছাড়া উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) ইমারত ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগে কর্মরত গার্ড মোঃ জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, তার তত্ত্বাবধানে পাঁচজন বহিরাগতকে সরকারি কোয়ার্টার ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিজিএম বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, ওটিআর অঞ্চলের অধীন কোলোকেশন বিভাগের টিসিটি এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা জুনিয়র ম্যানেজার মোঃ মিল্টন মিয়ার বিরুদ্ধেও পৃথক অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি একটি সরকারি কোয়ার্টার দখল করে ভাড়া দিয়ে রেখেছেন, যদিও সেটি অন্য এক কর্মচারীর নামে বরাদ্দ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে ওই কোয়ার্টারে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মিল্টন মিয়া বিভিন্ন সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম উল্লেখ করে প্রভাব বিস্তার করেন এবং আপত্তি তুললে কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখানো হয়।
সূত্রের দাবি, লোকস্ট-২৫ নম্বর কোয়ার্টারটি মিল্টন মিয়ার নামে বরাদ্দ থাকলেও তিনি লোকস্ট-২৬ নম্বর কোয়ার্টারটিও দখলে রেখেছেন।এ বিষয়ে ডিজিএম ইমারত ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ থেকে তাকে নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি তা যথাযথভাবে অনুসরণ করেননি বলে জানা গেছে।
এছাড়াও, বিটিসিএল কলোনীর একটি ভবনে কর্মরত শুক্কুর আলীর বিরুদ্ধে সরকারি পানির লাইন অবৈধভাবে সংযোগ ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিটি পানির লাইনের জন্য ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে মাসিক ভিত্তিতে ভাড়া আদায় করা হয়। অভিযোগকারীদের মতে, এসব অবৈধ আয়ের একটি অংশ সংশ্লিষ্ট
কয়েকজন ব্যক্তির কাছে পৌঁছায়।এ বিষয়ে অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোঃ খোরশেদ আলম, মোঃ মিল্টন মিয়া, মোঃ শহীদুল ইসলাম, মোঃ জয়নাল আবেদীন এবং শুক্কুর আলীর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তারা কেউ ফোন রিসিভ করেননি বা মন্তব্য করতে সম্মত হননি।
এদিকে বিটিসিএল সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, উত্থাপিত অভিযোগগুলো অভ্যন্তরীণভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি দখল ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।








