ঢাকা | মার্চ ১৪, ২০২৬ - ৩:৪২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

শত শত কবর খননকারী কেরামত আলী, হারিয়েছেন কোদাল উঁচিয়ে ধরার জোর!

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Friday, March 13, 2026 - 7:18 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 8 বার

সাজ্জাদ মাহমুদ সুইট, রাজশাহী:জীবনের দীর্ঘ ৫০ বছরেরও অধিক সময়ে প্রায় ৬০০’র বেশি মানুষের শেষ শয্যা তৈরি করেছেন তিনি। যে মাটি একদিন তার হাতের ছোঁয়ায় প্রাণহীন দেহকে আগলে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হতো, আজ সেই হাতে কোদাল ধরার শক্তিটুকু হারিয়েছেন তিনি। বয়সের ভার আর ক্লান্ত শরীরের কাছে হার মেনে অবশেষে কবর খনন থেকে অবসর নিয়েছেন রাজশাহীর বাঘা পৌরসভার গাওপাড়া গ্রামের পরিচিত মুখ গোরখোদক কেরামত আলী (৮০)।

নিঃস্বার্থ এই অভিযাত্রায় আশেপাশের গ্রামের মানুষের কাছে কেরামত আলী মানেই ছিল এক নির্ভয় ভরসা। গভীর রাত হোক কিংবা তপ্ত দুপুর, কারো মৃত্যুর খবর কানে আসামাত্রই কাঁধে কোদাল তুলে নিতেন তিনি।

এলাকাবাসীরা জানান, দীর্ঘ পাঁচ দশকে তিনি আনুমানিক ৬০০ থেকে ৭০০ টির মতো কবর খনন করেছেন। কোনো প্রকার পারিশ্রমিকের লোভ তাকে স্পর্শ করেনি; বরং পরকালের হিসেবেই তিনি এই কঠিন কাজটিকে বেছে নিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন একজন দিনমজুর। মৃত্যুর খবর শোনার সাথে সাথে তিনি কাজ ফেলে চলে আসতেন কবর খনন করতে। তবে কোন দিন কারো থেকে এই কাজের জন্য কোন টাকা নিতেন না। কাজটি তিনি করতেন নিঃস্বার্থভাবে।

এই সংবাদটির প্রতিবেদক সাজ্জাদ মাহমুদ সুইট এর সঙ্গে কবর খননের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অসুস্থ কেরামত আলীর চোখ ভিজে ওঠে। তিনি বলেন “হিসাব তো কোনোদিন রাখিনি দাদা , তবে খাতায় নাম লিখলে আস্ত একটা গ্রাম হয়ে যেত। কচি শিশু থেকে শুরু করে শতবর্ষী বৃদ্ধ সবার ঘর বানিয়েছি। এখন যখন কবরস্থানের পাশ দিয়ে হাঁটি, মনে হয় প্রতিটি মাটি আমায় চেনে। কিন্তু এখন আর কোদালটা উঁচিয়ে ধরার জোর পাই না।”

স্থানীয়রা জানান, কেরামত আলীর অবসর নেওয়া কেবল একজন ব্যক্তির কাজ থামা নয়, বরং একটি ভরসার জায়গার সমাপ্তি। তারা আরও জানান, তার খনন করা কবরে কখনো পরিমাপের ভুল হতো না। শক্ত মাটি কিংবা পাথুরে জমি কোনো কিছুই তাকে থামাতে পারতো না। বর্তমানে কেরামত আলীর দিন কাটে মসজিদের বারান্দায় কিংবা নিজের বাড়ির উঠোনে। শরীর সায় দেয় না বলে এখন আর কবরের গভীরে নামা হয় না তার। তবে গ্রামের নতুন ছেলেরা যখন কবর খুঁড়তে যায়, দূর থেকে লাঠিতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে দিকনির্দেশনা দিতে দেখা যায় তাকে।

কেরামত আলী হয়তো আর কোনোদিন সাড়ে তিন হাত মাটির ঘর বানাবেন না, কিন্তু শত শত মানুষের শেষ ঠিকানার সাক্ষী হয়ে তিনি মিশে থাকবেন এই জনপদের ইতিহাসে।