ঢাকা | জুন ১২, ২০২৬ - ১০:৪০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

নেত্রকোণায় জলমাহল ইজারায় অনিয়মের অভিযোগ

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Friday, June 12, 2026 - 6:56 am
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 23 বার

নেত্রকোণা সংবাদদাতাঃ নেত্রকোণার আটপাড়ায় জলমহাল ইজারায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।উপজেলার লুনেশ্বর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের দুটি জলমহালের ইজারায় এই অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী বিতাড়িত জেলেরা।২০২৪ এর ৯ অক্টোবর দখল চেয়ে আবেদন করলেও ২০২৬ এ এসেও দখল না পাওয়ার অভিযোগ সমিতির সদস্যদের।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে ভুক্তভোগী জেলেরা জানান, সোনালী মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির নামে ৩ বছরের জন্য ইজারা নেওয়া হয় কুমারিয়া খাল ও গাইনা বিল।শুরুতে কয়েক বছর ঠিক থাকলেও ৫ আগস্টের পর সোনালী মৎস্যজীবী সমিতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন লুনেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন রফিক।ভুক্তভোগী জেলেদের দাবী রফিক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সর্বশেষ জলমহাল দুটি সোনালী মৎস্যজীবী সমিতির নামে ইজারা নেওয়া হলেও নুর মিয়া, কামাল মিয়া, রাহুল ইসলাম, নওয়াব মিয়া, রুহুল আমিন এবং আবদুল গনি সহ বেশ কয়েকজন প্রকৃত জেলেকে বিতাড়িত করেন।সমিতির সদস্য হয়েও ইজারায় অংশ নিতে না পেরে এবং জলমহালের দখল না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ওই জেলেরা।

ইজারা থেকে বিতাড়িত জেলে নওয়াব আলী জানান চাঁদাবাজ ও দখলবাজ পুতুল বেপারী, সুলতান মিয়া, নয়ন মিয়া এবং নুর ইসলাম গং মিলে গত দুই বছর ধরে অবৈধভাবে জলমহাল দুটি ভোগ দখল করছে।অথচ এরা সোনালী মৎস্যজীবী সমিতির সদস্য নয়।তারা সরাসরি বিএনপির রাজনীতি এবং পদে থাকায় আমরা কোন প্রতিবাদ করতে পারছি না।জলমহাল দুটি আমাদের সোনালী মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির নামে ৩ বছরের জন্য ইজারা নেওয়া হলেও আমরাই সেখানে অবহেলিত। আগে এগুলো ইজারা নিয়েই আমাদের পেট চলত।এখন আমরা না খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।বারবার প্রশাসনকে সমিতির বৈধ সদস্যদের কাছে জলমহালের ইজারা বুঝিয়ে দিতে বললেও তারা আমাদেরকে দখল বুঝিয়ে দেয়নি।

তিনি আরও জানান দখলদাররা আটপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাসুম চৌধুরীর অনুসারী হওয়ায় কেউ ভয়ে মুখ খুলছে না।আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই এবং আমাদের ইজারাকৃত জলমহাল আমরা প্রকৃত জেলেরা দখল ফেরত চাই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে লুনেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন রফিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।পরবর্তীতে ম্যাসেজ দিলেও কোন জবাব পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে নেত্রকোণা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব সুখময় সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান জলমহাল ইজারা নেওয়ার পর দখল বুঝিয়ে না দেওয়ার কোন সুযোগ নেই।আমরা সরাকরি নিয়ম মেনে ওই সমিতিকে ইজারা বুঝিয়ে দিয়েছি।সোনালী মৎস্যজীবী সমিতির নামে জলমহাল দুটি ইজারা নিলেও সোনালী মৎস্যজীবী সমিতির প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে জেলে নয় এমন লোকজন জলমহালটি সেটি দখল করে রেখেছে এমন প্রশ্নে তিনি জানান এটি তাদের ইন্টার্লান বিষয়।এমনটি হলে সমিতির লোকজন আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন।