মুক্তাগাছায় চাঁদা না পেয়ে মৎস আড়তে সন্ত্রাসী হামলা, জিয়া পরিবারের ছবি সহ ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট-
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার সত্রাশিয়া বাজারে আমজাদ হোসেন মৎস আড়তে চাঁদা না পাওয়ার জেরে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়ার ছবি সহ ব্যাপক ভাঙচুর ও নগদ অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২৯জুন) বিকেল পাঁচটায় উপজেলার সত্রাশিয়া বাজারের আমজাদ হোসেন মৎস আড়ৎ ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী ব্যবসারীরা। অভিযুক্তরা হলেন- স্থানীয় কুমারগাতা ইউনিয়নের গন্ধবপুর গ্রামের জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূর উদ্দিন আহমেদ এর দুই ছেলে সোহেল ও সোহাগ এবং একই ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ নেতা মিন্টুর ছেলে প্রিন্স সহ আরও অনেকে।
অভিযুক্ত সন্ত্রাসীরা আসাদুলের এই মৎস আড়তে চাঁদা দাবী করে। আসাদুল সহ অন্যান্য মাছ ব্যবসায়ীরা চাঁদা দিতে না চাইলে তারা সম্মিলতভাবে ঐ আড়তে সশস্ত্র হামলা চালায়। স্থানীয় বিএনপি সমর্থিত মৎসজীবীদের নিজস্ব অর্থায়নে সাজানো এই আড়তটি একইসাথে স্থানীয়ভাবে তারা নিজেদের জন্য বিএনপি অফিস হিসেবেও ব্যবহার করে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এসময় আড়তে টাঙানো শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম জিয়ার ছবি সহ তারা ব্যাপক ভাঙচুর ও ধ্বংশযজ্ঞ চালায়। ভিকটিমদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ভাঙচুর শেষে তারা আড়তের ক্যাশবাক্সে থাকা প্রায় লক্ষাধিক টাকা লুট করে দ্রূত প্রস্থান করে। বিষয়টি নিয়ে থানায় কোন মামলা হলে বা বেশী বাড়াবাড়ি হলে ভিকটিমদের সরাসরি হত্যা করা হবে এ মর্মে হুমকি দেয়া হচ্ছে। এব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন সহ দলীয় সহযোগীতা পেলে ক্ষতিগ্রস্থ মৎসজীবীরা মামলা করতে প্রস্তুত আছে বলে জানান। স্থানীয় সম্মিলিত জাতীয়তাবাদী মৎসজীবীরা এই নৃশংস ঘটনার সুস্থ তদন্ত সহ হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় ৫ আগষ্টের পরেও উক্ত এলাকায় সোহেল, সোহাগ, মনির, রাজীব, রতন ও আকরামের সম্মিলিত সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন যাবৎ চঁদাবাজী ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। একই কায়দায় গত ১৪ জুন উপজেলার নতুন বাজার হাসপাতাল গেইটের সামনে ভিকটিম আসাদুলের ছোট ভাই যুবদল নেতা আনোয়ারকেও তারা বেরধক পিটিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান বলে প্রচার করার চেষ্টা করে অথচ স্থানীয় মাদক সিন্ডিকেট তারা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।
যুবদল নেতা আনোয়ারের উপর হামলার বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য অবগত আছেন বলে তথ্যসূত্র নিশ্চিত করে। আওয়ামীলীগ আমল থেকে অদ্যাবধি তাদের কাছে স্থানীয় জনগণ এভাবেই জিম্মি হয়ে আছে। তাদের মধ্যে মনির, আকরাম ও রতন ৩২৬ ধারার আসামী। আকরাম ও রতন বর্তমানে জামিনে আছে। সূত্র তথ্যে আরও জানা যায় গত ২০শে জুন স্থানীয় একটি পুকুরের মাছ চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোহেল ও সোহাগ তাদের প্রতিপক্ষ কিছু সাধারণ মানুষকে ফাঁসিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতানোর চেষ্টা করে। মুক্তাগাছা থানার বর্তমান ওসি, তদন্তকে তারা এই বিষয়ে কনভেন্স করার চেষ্টা করলে তিনি দ্বিমত পোষণ করেন। ওসি,তদন্ত প্রকৃত অপরাধীদের সনাক্ত করার চেষ্টা করলে তার সাথে সোহেল ও সোহাগের প্রচন্ড বাগবিতণ্ডা তৈরী হয়। আরও গভীর পর্যবেক্ষণে জানা যায় সোহাগ ঢাকায় ইনকাম টেক্স অফিসে সরকারি চাকরি করে বর্তমানে প্রচুর ধন সম্পদের মালিক বনে গেছেন। একজন কম্পিউটার অপারেটর হয়েও তিনি স্থানীয় ঢলুয়াবিল এলাকায় ১২ শতাংশ জায়গা জুড়ে চারতলা বিলাসবহুল বাড়ী নির্মাণ করেছেন এবং দামী গাড়ী ব্যবহার করেন। মূলত এই টোটাল সিন্ডিকেটের প্রধান হলেন এই মিনহাজ উদ্দিন সোহাগ। তৃতীয় শ্রেনীর সরকারি কর্মচারী হয়ে তিনি এলাকায় এসে সহকারি কমিশনার হিসেবে নিজেকে প্রচার করে থাকেন। তারও তার বাবার মতো ভবিষ্যতে রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হওয়ার ইচ্ছে আছে তাই তিনি ভিলেজ পলিটিক্সের আদলে এসব সিন্ডিকেট গড়ে তুলছেন। মৎস আড়তের এই হামলার নেপথ্যেও মিনহাজ উদ্দিন সোহাগ এর প্রধান হাত আছে বলে জানা গেছে কারন ভিকটিম আসাদুলের বড় ভাই আনিছুর রহমান এই ইউনিয়নের একজন অন্যতম ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। অপরদিকে সোহাগ গং এই প্রার্থীতার বিরুধী অবস্থানে রয়েছে । এই ঘটনায় স্থানীয় ভিলেজ পলিটিক্স কিছুটা দৃশ্যমান হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে স্থানীয় সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীদের চাঁদাবাজী ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগ প্রকট। ভুক্তভোগী সহ সাধারণ মানুষও তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় নেওয়ার জোর দাবী জানান।








