কমলগঞ্জে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ফেরার পথে ছিনতাই: রহস্য উদ্ঘাটন, চট্টগ্রাম থেকে মূল হোতা গ্রেপ্তার
রাজন আবেদীন রাজু, স্টাফ রিপোর্টার: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে পূবালী ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের পর বাড়ি ফেরার পথে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ছিনতাইয়ের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত মূল হোতা সেলিম আহমদ ওরফে ‘বটলা সেলিম’ (৩৮)-কে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই মৌলভীবাজার জেলা।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুর ২টায় পিবিআই মৌলভীবাজার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পিবিআই মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. জাফর হোসেন (পিপিএম-সেবা)।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২২ জুন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর পূবালী ব্যাংক শাখা থেকে রেহেনা বেগম (৫১) ১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা উত্তোলন করে সিএনজিযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে আলীনগর চা বাগান ফ্যাক্টরির দক্ষিণ পাশে কালী মন্দির এলাকায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে আসা চারজন ছিনতাইকারী তার গতিরোধ করে। পরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও ব্যাংকের চেক ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রেহেনা বেগম পরদিন ২৩ জুন কমলগঞ্জ থানায় পেনাল কোডের ৩৯২ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর পিবিআই মৌলভীবাজার ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত সেলিম আহমদ ওরফে ‘বটলা সেলিম’-কে শনাক্ত করা হয়। পরে পিবিআইয়ের একটি আভিযানিক দল চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
এ সময় ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যবহৃত লাল রঙের মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলটি ভুক্তভোগী শনাক্ত করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
পুলিশ সুপার মো. জাফর হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃত সেলিম আহমদের বিরুদ্ধে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, দস্যুতা ও ছিনতাইসহ অন্তত ৯টি মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আলোচিত ছিনতাইয়ের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে পিবিআইয়ের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের আইনের আওতায় এনে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।








