ঢাকা | জুলাই ২৪, ২০২৬ - ৩:২৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

ইউক্রেনের জে’ল’খা’না’য় ব’ন্দি ত্রিশালের ধানীখোলার সুমন : সুমনের ফেরার অপেক্ষায় বা’ক’রু’দ্ধ পরিবার

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Thursday, July 23, 2026 - 7:48 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 8 বার

এস.এম রুবেল আকন্দ: একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ, পরিবারের মুখে একটুখানি হাসি আর একমাত্র সন্তানকে ঘিরে বুক বাঁ’ধা অজস্র স্ব’প্ন—এসবের ব’ন্দো’ব’স্ত করতেই ভিটেমাটি আর স’ম্ব’ল বিক্রি করে দূর পরবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন তরুণ শাহরিয়ার সুমন।

কিন্তু একটি ভু’ল সিদ্ধান্ত আর আ’দ’ম’বে’পা’রী’দে’র প্র’তা’র’ণা’র ফাঁ’দে পড়ে সেই সুদূরের স্বপ্ন আজ ফি’কে হয়ে মিশে গেছে ইউক্রেনের অ’ন্ধ প্র’কো’ষ্ঠে।

দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে সুমনের কোনো খোঁজ না পেয়ে যখন পুরো পরিবার শো’কে পা’থ’র, ঠিক তখনই খবর আসে—ইতালির ইউরোপীয় স্বপ্নের সমীকরণ মিলতে গিয়ে সুমন আজ ব’ন্দি ইউক্রেনের অ’ন্ধ’কা’র এক কা’রা’গা’রে।

​ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা উজান ভাটিপাড়া (মাইজপাড়া) গ্রামের সন্তান শাহরিয়ার সুমন। বাবা ওয়াজেদ আলী আর মা জোসনা বেগমের কপালে চি’ন্তা’র ভাঁ’জ ফেলে প্রায় এক বছর আগে ৯ লক্ষ টাকার চ’ড়া মাশুল গুনে বৈধ ‘ওয়ার্ক পারমিট’ ভিসায় রাশিয়ায় যান তিনি। বর্তমানে মা বাবা মৃত্যু শয্যায়।

সেখানে ‘সেনোপ্লেক্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে সততার সাথে সাত-আট মাস কাজও করেন। কিন্তু ভাগ্যের নি’র্ম’ম চাকা আর দা’লা’ল’দে’র লো’ভ’নী’য় ফাঁ’দে পড়ে জীবনটাই বদলে যায় সুমনের।

রাশিয়া থেকে ইতালির উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে পথ হা’রি’য়ে তিনি ও তাঁর সহযাত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের তরুণ হাসান আ’ট’কা পড়েন ইউক্রেন সীমান্তে। সেখান থেকেই সোজা ইউক্রেনের জে’ল’খা’না’য়।

​রাশিয়ায় থাকা অবস্থায় পরিবারের সাথে সুমনের নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও গত তিন-চার মাস ধরে সম্পূর্ণ বি’চ্ছি’ন্ন সেই সুতো। কোনো ফোন নেই, নেই কোনো খবর।

কয়েকদিন আগে যখন অন্য মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে সুমন ইউক্রেনের জে’লে ব’ন্দি, তখন থেকেই ভা’ঙা ঘরের দাওয়ায় যেন বি’ষা’দে’র ঘ’ন ছা’য়া।

​সবচেয়ে হৃ’দ’য়’বি’দা’র’ক দৃশ্য দেখা যাচ্ছে সুমনের বাড়িতে। স্বামী হা’রি’য়ে যাওয়ার বে’দ’না’য় ও দু’শ্চি’ন্তা’য় দি’শে’হা’রা সুমনের স্ত্রী খালেদা আক্তার। কোলে ছোট এক সন্তান। অবুঝ শিশুটি এখনো বোঝে না বাবা কোন দূর দেশে আ’ট’কা পড়ে আছে, সে শুধু মায়ের অ’শ্রু’স’জ’ল চোখের দিকে চেয়ে থাকে।

স্বজনেরা জানাচ্ছেন, প্রতিটা দিন ও রাত খালেদা আক্তারের কাটছে এক বুক হা’হা’কা’র আর আ’শ’ঙ্কা’য়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রাণালয় এবং বাংলাদেশ সরকারের নিকট এক সন্তানকে কোলে নিয়ে কা’ন্না’জ’ড়ি’ত কণ্ঠে আকুল আকুতি জানান খালেদা আক্তার—
​”আমার অ’বু’ঝ বাচ্চাটার মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও আমার স্বামীকে ফিরিয়ে দিন। সুমনসহ ইউক্রেনের জে’লে ব’ন্দি থাকা প্রতিটি বাঙালি সন্তানকে দ্রুত ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুক সরকার। আমরা সারাজীবন সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব।”

​যে মানুষটি পরিবারের জীবনযাত্রার চাকা ঘুরাতে ঘর ছেড়েছিলেন, আজ তিনি নিজেই পরদেশের এক হিমশীতল ব’ন্দি’শা’লা’য় ব’ন্দী।

সরকারের কাছে ত্রিশালবাসীরও একটাই দাবি—কূ’ট’নৈ’তি’ক ত’ৎ’প’র’তা জো’র’দা’র করে দ্রুততম সময়ে শাহরিয়ার সুমন ও তাঁর সহযাত্রী হাসানকে দেশে ফিরিয়ে এনে এই অ’বু’ঝ শিশুটি এবং অ’স’হা’য় পরিবারটির মুখে হাসি ফোটানো হোক।