যুক্তরাষ্ট্রের আইটি চাকরির বাজারে মন্দা, বিপাকে বাংলাদেশি পেশাজীবীরা
মো. নাসির, নিউ জার্সি (যুক্তরাষ্ট্র) প্রতিনিধি:একসময় যুক্তরাষ্ট্রের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতকে উচ্চ বেতন ও স্থায়ী ক্যারিয়ারের অন্যতম নিরাপদ ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হলেও, বর্তমানে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। অভিজ্ঞ বাংলাদেশি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ডেভেলপার, ডেটা অ্যানালিস্ট ও আইটি পেশাজীবীদের অনেকেই শত শত প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেও সাক্ষাৎকারের ডাক পাচ্ছেন না।
নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, টেক্সাস ও ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি আইটি পেশাজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাকরি হারানোর পর কয়েক মাস ধরে নতুন চাকরি না পেয়ে অনেকে উবার, লিফট, ডোরড্যাশ, অ্যামাজন ডেলিভারি কিংবা অন্যান্য অস্থায়ী কাজে যুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন। সংসারের খরচ, বাড়িভাড়া, স্বাস্থ্যবিমা ও পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে এসব বিকল্প কাজই এখন অনেকের ভরসা।
বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-তে বড় বিনিয়োগ, করপোরেট পুনর্গঠন এবং ব্যয় কমানোর নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই প্রযুক্তি খাতে এক লাখ ৪০ হাজারের বেশি চাকরি কমেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতাও বেড়েছে। অভিজ্ঞ প্রার্থীর সংখ্যা বাড়লেও নতুন নিয়োগের গতি তুলনামূলক ধীর। ফলে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও অনেক যোগ্য প্রার্থী মাসের পর মাস চাকরি খুঁজে পাচ্ছেন না।
অভিবাসী কর্মীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন। বিশেষ করে কর্মভিসাধারীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন চাকরি না পেলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
তবে শ্রমবাজার বিশ্লেষকদের পরামর্শ, বর্তমান পরিস্থিতিতে AI, ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার নিরাপত্তা ও ডেটা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো চাহিদাসম্পন্ন দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে নিয়মিত হালনাগাদ রাখলে নতুন সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।








