সংবাদমাধ্যম তিনটি অভিযোগ করেছে, তাদের সাংবাদিকদের প্রেস-ক্রেডেনশিয়াল বাতিল করে হোয়াইট হাউসে প্রবেশে বাধা দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং পঞ্চম সংশোধনীর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করেছে। তারা আদালতের কাছে দ্রুত একটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়েছে, যাতে সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার পুনর্বহাল করা হয়।
ট্রাম্প গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে CNN, MS NOW ও POLITICO-কে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, এসব সংবাদমাধ্যম তার প্রশাসন ও প্রেসিডেন্টকে নিয়ে ‘ভুয়া সংবাদ’ প্রকাশ করছে। সোমবারও ট্রাম্প তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, হোয়াইট হাউস মুক্ত সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে নয়; বরং তিনি যাকে ‘ফেক নিউজ’ বলে অভিহিত করছেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবেও উল্লেখ করেন, যদিও এ দাবির পক্ষে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কোনো প্রমাণ দেখানো হয়নি।
অন্যদিকে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স বলেন, প্রশাসন সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করছে না; বরং যেসব সংবাদমাধ্যমকে প্রশাসন ‘প্রোপাগান্ডা’ ছড়াচ্ছে বলে মনে করে, তাদের হোয়াইট হাউসের বিশেষ প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে না।
ঘটনাটির প্রভাব হোয়াইট হাউসের টেলিভিশন প্রেস-পুলেও পড়েছে। CNN, ABC, CBS, Fox News ও NBC নিয়ে গঠিত টিভি পুলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, CNN-কে প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত পুল কাভারেজ থেকে বাদ দেওয়ার পর সোমবার প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠানের জন্য কোনো বিকল্প টিভি পুলও রাখা হবে না।
মামলাটি ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল আদালতে বিচারপতি টিমোথি জে. কেলি-র আদালতে গেছে। এর আগে ২০১৮ সালে CNN-এর সাংবাদিক জিম অ্যাকোস্টার হোয়াইট হাউসের প্রেস পাস বাতিলের ঘটনায় বিচারপতি কেলি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার প্রশ্নে সাংবাদিকের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। তবে বর্তমান মামলার সাংবিধানিক প্রশ্নগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, প্রেসের প্রবেশাধিকার এবং সরকারের সমালোচনামূলক সংবাদ কাভারেজের সীমা নিয়ে নতুন করে আইনি ও সাংবিধানিক বিতর্ক তৈরি করেছে। মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালত হোয়াইট হাউসের সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত করবে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।