পঞ্চগড়ে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি
স্নিগ্ধা খন্দকার, স্টাফ রিপোটার:পঞ্চগড়ে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনাসদস্যের ভোগদখলে থাকা ১৩ শতক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় আদালতে মামলা করার পাশাপাশি থানায় অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। তবে দীর্ঘদিনেও প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ওই অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য।
ঘটনাটি পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের কাগজিয়াপাড়া গ্রামের। ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মশিউর রহমান। অভিযুক্ত মোজাম্মেল হকও একই গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে তিনি এনসিপির নেতা হিসেবে পরিচিত।
গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে পঞ্চগড় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন মশিউর রহমান। পরে সাংবাদিকেরা তাঁর অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে কাগজিয়াপাড়ায় গিয়ে জমিটি পরিদর্শন করেন।
মশিউর রহমানের অভিযোগ, ২০১০ সালে তিনি ১৩ শতক জমি কিনে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ ও গাছ লাগিয়ে ভোগদখল করে আসছেন। গত বছরের অক্টোবর মাসে পরিবারের সদস্যরা ওই জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে মোজাম্মেল হক ও তাঁর লোকজন বাধা দেন। এ সময় তাঁকে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, গত বছরের নভেম্বর মাসে জমিতে বাড়ি নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় আবারও বাধা দেওয়া হয়। এ সময় নির্মাণশ্রমিকদের গালিগালাজ করা হয় এবং তাঁকে জমি থেকে উচ্ছেদ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় মশিউর রহমান আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ও ১৪৫ ধারায় মামলা করেন। মামলায় মোজাম্মেল হকসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের ১ নভেম্বর মোজাম্মেল হক ও তাঁর লোকজন মশিউর রহমানের জমিতে বাড়ি নির্মাণে বাধা দেন। এ সময় নির্মাণশ্রমিকদের গালিগালাজের পাশাপাশি মশিউর রহমানকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ১৩ শতক জমিটির তিন পাশে ইটের সীমানাপ্রাচীর রয়েছে। এর ওপর বাঁশের বেড়া দেওয়া। জমির বেশির ভাগ অংশ ফাঁকা। সামনের অংশে মালিকানা দাবি করে দুটি সাইনবোর্ড রয়েছে। এ ছাড়া খুঁটির ওপর একটি টিনের চালা স্থাপন করা হয়েছে।
মশিউর রহমান বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছি। এখন মোজাম্মেল হক ও তাঁর লোকজন অন্যায়ভাবে জমি দখলের চেষ্টা করছেন এবং আমাকে হুমকি দিচ্ছেন। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসন ও দেশবাসীর কাছে এর বিচার চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে মোজাম্মেল হক বলেন, তিনি মশিউর রহমানের জমি দখলের কোনো চেষ্টা করেননি। তাঁর দাবি, জমি নিয়ে মশিউর রহমান তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছেন।
নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে মোজাম্মেল হক বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সারজিস আলমের শাপলা কলি প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি স্থানীয়ভাবে পৌর এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।








