ঢাকা | আগস্ট ৯, ২০২৬ - ১১:২৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

কাঠালিয়ায় বাবার সম্পত্তি নিয়ে চার ভাইয়ের বিরোধ, মুখোমুখি পাল্টাপাল্টি দাবি

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Sunday, August 9, 2026 - 2:12 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 13 বার
কঞ্জন কান্তি চক্রবর্তী, ঝালকাঠি কাঠালিয়া প্রতিনিধি : 
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার শৌলজালিয়া ইউনিয়নের বিনাপানি কৈখালী গ্রামের মৃত সুখরঞ্জন হাওলাদারের রেখে যাওয়া বিনাপানি-২৪ মৌজার এসএ ৬৩৩ খতিয়ানের ১৫৮৫ দাগের  সম্পত্তি সম্পত্তি নিয়ে তাঁর চার ছেলের মধ্যে বিরোধ ও কলহের সৃষ্টি হয়েছে। জমির মালিকানা, ক্রয়, দলিল ও উত্তরাধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের মধ্যে মতবিরোধ চলছে বলে জানা গেছে।
মৃত সুখরঞ্জন হাওলাদারের চার ছেলে হলেন সুসেন হাওলাদার, উপেন হাওলাদার, দীপেন হাওলাদার ও গৌতম হাওলাদার। তাঁর এক কন্যাসন্তানও রয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, সুখরঞ্জন হাওলাদারের নামে মোট প্রায় ৪৪ কাঠা জমি ছিল। এর মধ্যে ৮ কাঠা জমি তিনি পৈতৃক সূত্রে পেয়েছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে। বাকি প্রায় ৩৬ কাঠা জমি তাঁর দুই ছেলে সুসেন ও দীপেনের উপার্জিত অর্থে বাবার নামে কেনা হয়েছিল বলে দাবি দীপেনের। তাঁর ভাষ্য, বাবার নামে জমি কেনার উদ্দেশ্য ছিল ভবিষ্যতে সব ভাইয়ের মধ্যে সমানভাবে অংশ বণ্টন করা।
তবে সুখরঞ্জন হাওলাদারের মৃত্যুর প্রায় ১৩ বছর পর ছোট ছেলে গৌতম একটি দলিল উপস্থাপন করেন বলে দাবি করেছেন দীপেন। ওই দলিলে গৌতমের নামে ১৬ কাঠা, সুসেনের নামে ৮ কাঠা এবং উপেনের নামে ৮ কাঠা জমি রয়েছে বলে তিনি জানান। তবে সেখানে তাঁকে কোনো অংশীদার করা হয়নি বলে অভিযোগ দীপেনের। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একবার শালিস বৈঠকও হয়েছে বলে জানা গেছে।এছাড়াও সুখ রঞ্জন হাওলাদার মৃত্যুর আগে মৌখিক  বলে গেছেন যেন ৮ কাঠা জমি দীপেনকে গৌতম ফেরত দেয় এমন অছিয়ত করে গেছেন বলে জানা যায়। যার সাক্ষী ছিলেন বড় ছেলে সুসেন হাওলাদার এবং সুসেন হাওলাদার এর স্ত্রী, সুখরঞ্জন হাওলাদার এর মেয়ে এবং স্থানীয় রতন হাওলাদার।
দীপেনের বড় ভাই সুসেন হাওলাদার বলেন, তাঁর ছোট ভাই গৌতম ঢাকায় থাকতেন এবং জমি রেজিস্ট্রির সময় তাঁর খরচ হয়েছিল। সে কারণে দলিলে তাঁর নামে তুলনামূলক বেশি জমি লেখা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। সুসেনের দাবি, ৪৪ কাঠা জমির মধ্যে পৈতৃক ৮ কাঠা বাদ দিলে বাকি জমি তাঁর ও দীপেনের উপার্জিত অর্থে কেনা। উপেন এ জমি কেনার ক্ষেত্রে মাত্র ৫০০ টাকা দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে উপেন হাওলাদারের বক্তব্য, পরিবারের কিছু জমি বন্ধক রেখে দীপেন টাকা খরচ করেছিলেন এবং তাঁদের বাবার চিকিৎসার পেছনেও অর্থ ব্যয় হয়েছিল। এসব কারণে ছোট ভাই গৌতম বেশি জমি পেয়েছেন বলে তাঁর দাবি। উপেন আরও বলেন, মৃত্যুর আগে তাঁদের বাবা সুখরঞ্জন হাওলাদার বলেছিলেন দীপেন দুই লাখ টাকা দিলে তাঁকে ৮ কাঠা জমি ফিরিয়ে দিতে হবে।
তবে দীপেনের দাবি, তাঁর বাবার জীবদ্দশায় জমি বিক্রি বা এ ধরনের বণ্টনের বিষয়টি তিনি জানতেন না।
এ বিষয়ে গৌতম হাওলাদার বলেন, তিনি তাঁর বাবার সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রেই পাওয়ার অধিকারী। তাই উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়ার জমি আলাদাভাবে দলিল করে ভোগ করার প্রশ্ন আসে না বলে তাঁর দাবি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁদের মেজো ভাই উপেন প্রথমে বাবার কাছ থেকে একটি জমি কেনার পর থেকেই মূল বিরোধের সূত্রপাত। তিনি আরও দাবি করেন, তিনি নিজে আগে জমি কেনার আগ্রহী ছিলেন না  তাঁর বাবা টাকা নিয়ে জমি নেওয়ার জন্য তাঁকে বাধ্য করেছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যে আরও জানা যায়, সুখরঞ্জন হাওলাদার জীবিত থাকা অবস্থায় পারিবারিক বিরোধের এক পর্যায়ে দীপেনের স্ত্রীকে উপেন মারধর করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে চিকিৎসার খরচ মেটাতে ওই জমি বন্ধক রাখা হয়েছিল বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গৌতম আরও অভিযোগ করেন, দীপেন তাঁর বাবার কিছু টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন। এ কারণে তাঁদের বাবা নিজেই দীপেনকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেছিলেন বলে তাঁর দাবি। তবে দীপেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁর বাবা যখন জমি বণ্টন বা দলিল করেছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে, তখন তিনি মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন কি না তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
এদিকে, একই সম্পত্তি নিয়ে ভাইদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে প্রকৃত মালিকানা ও দলিলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট জমির দলিল, খতিয়ান, রেকর্ড, নামজারি, অর্থ লেনদেনের প্রমাণ এবং উত্তরাধিকার সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করা হলে প্রকৃত বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে শালিস বৈঠক হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চলমান বিরোধ নিরসনে প্রশাসনিকভাবে প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।