আবার ও চালু মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল
আনোয়ার হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) বা এলএনজি টার্মিনালটি তিন দিন বন্ধ থাকার পর শুক্রবার (২২ আগস্ট) পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে।
এলএনজি কার্গোর ঘাটতির কারণে গত তিন দিন সরবরাহ বন্ধ থাকার পর শুক্রবার দুপুর থেকে রিগ্যাসিফিকেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা দেশের চলমান গ্যাস সংকটে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ২টার দিকে টার্মিনালটি থেকে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে দৈনিক প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। অপারেশন স্থিতিশীল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহের পরিমাণ ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে।
দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত দুটি এফএসআরইউ থেকে দেশে মোট ৬৭০ এমএমসিএফডি এলএনজি সরবরাহ করা হয়। একই সময়ে জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ হাজার ৩০০ এমএমসিএফডি।
পেট্রোবাংলার প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) বিভাগের পরিচালক এবং অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী মো. শোয়েব বলেন, এক্সিলারেট টার্মিনালটি পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেছে এবং গ্যাস সরবরাহ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, টার্মিনালটির জন্য নির্ধারিত এলএনজি কার্গোবাহী জাহাজটি আগামীকাল পৌঁছানোর কথা থাকলেও একদিন আগেই এসে পৌঁছায়। ফলে শুক্রবার থেকেই টার্মিনালটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে।
এর আগে, মজুত এলএনজি শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১৯ আগস্ট থেকে টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল, যা দেশের গ্যাস সংকটকে আরও তীব্র করে তোলে।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তরের সময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় টার্মিনালটি দীর্ঘ সময় অচল ছিল। ওই ঘটনায় জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। পরে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আমদানি করে মেরামত শেষে আংশিক সরবরাহ শুরু হলেও গত সপ্তাহে এলএনজির মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় তা আবারও বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমানে মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল দেশের গ্যাস চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এক্সিলারেট টার্মিনালটি পুনরায় চালু হওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্প-কারখানা এবং অন্যান্য খাতে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।








