২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় সাগর-রুনি হত্যার শিকার হন। ওই সময় তাদের চার বছরের ছেলে মাহির সারওয়ার মেঘও বাসায় ছিল। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মামলাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। প্রথমে থানা-পুলিশ ও ডিবি তদন্ত করলেও পরে র্যাব তদন্তের দায়িত্ব নেয়। ২০২৪ সালে হাইকোর্টের নির্দেশে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
নতুন কিছু সূত্রের দাবি
সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অন্য একটি গুমের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে তদন্তকারীরা একটি মোবাইল ফোনের কল ডিটেইল রেকর্ড (CDR) বিশ্লেষণ করেন। সেই সূত্রে একজন সেনা সার্জেন্টকে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু নতুন তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, হত্যাকাণ্ডের দুই দিন আগে তৎকালীন মেজর জিয়াউল আহসান ওই সার্জেন্টকে ডেকে সতর্ক করেছিলেন এবং রোকেয়া প্রাচীর কাছ থেকে দুটি ডিস্ক নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে এসব তথ্য এখনো তদন্তাধীন দাবি—আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এগুলোর সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ল্যাপটপ ও ফোন ঘিরে পুরোনো প্রশ্ন
সাগর-রুনি হত্যার পর তাদের কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস, বিশেষ করে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন রয়েছে। তদন্তে এসব ডিভাইসে কী ধরনের তথ্য ছিল এবং সেগুলোর কোনোটি হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য উদ্দেশ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না—এ প্রশ্নের উত্তর এখনো প্রকাশ্যে স্পষ্ট হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে রুনির সাংবাদিকতা, বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং কথিত সংবেদনশীল তথ্যের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। তবে এসব তথ্যের অনেকগুলোই দাবি বা অনুমান, তাই তদন্তের চূড়ান্ত ফল না আসা পর্যন্ত এগুলোকে হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
রোকেয়া প্রাচীর নাম নিয়েও আলোচনা
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর নামও নতুন তদন্তসূত্রের প্রসঙ্গে এসেছে। তবে তাকে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বা অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার মতো কোনো আদালত-স্বীকৃত প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
তদন্তকারীরা যদি সত্যিই নতুন কোনো সূত্র পেয়ে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য যাচাই করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা জরুরি।
১৪ বছর পরও উত্তরহীন বহু প্রশ্ন
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও কেন হত্যার প্রকৃত কারণ ও মূল অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হলো না—এ প্রশ্ন এখনো সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন ১২৯ বার পিছিয়ে যাওয়ায় তদন্তের দীর্ঘসূত্রিতা নিয়েও তৈরি হয়েছে গভীর হতাশা।
এখন মানুষের প্রত্যাশা একটাই—নতুন কোনো সূত্র পাওয়া গেলে সেটি যেন নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হয় এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সাগর-রুনি হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়।
সত্য যত পুরোনোই হোক, সত্যের কাছে একদিন না একদিন পৌঁছাতেই হবে।
