ঢাকা | সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ - ৬:১২ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

গেজেটের দোহাই দিয়ে জ্বালানি তেলে বাড়তি দাম, পঞ্চগড়ে ক্ষোভ

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Monday, September 7, 2026 - 10:47 am
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 9 বার

স্নিগ্ধা খন্দকার, স্টাফ রিপোর্টার:পঞ্চগড়ের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ডিজেল, পেট্রল ও অকটেন বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। পরিবহন খরচের কথা বলে লিটারপ্রতি ৬৮ পয়সা থেকে ১ টাকা ১০ পয়সা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। এ নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

পঞ্চগড় জেলায় ২৩টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন হাটবাজারে রয়েছে ছোট আকারের তেল বিক্রির পাম্প। অভিযোগ রয়েছে, দূরত্বভেদে এসব বিক্রয়কেন্দ্রে সরকার নির্ধারিত দামের সঙ্গে পরিবহন খরচ যোগ করে জ্বালানি তেলের দাম নেওয়া হচ্ছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে প্রতি লিটার জ্বালানি তেলে অতিরিক্ত ৬৮ পয়সা এবং তেঁতুলিয়া উপজেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে সর্বোচ্চ ১ টাকা ১০ পয়সা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। দূরত্ব অনুযায়ী জেলার অন্য এলাকাতেও বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি তেঁতুলিয়ার একটি ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গিয়ে বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় ক্রেতা মুস্তাক আহমেদের। পাম্পের মনিটরে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্য দেখতে পেয়ে তিনি ম্যানেজারের কাছে কারণ জানতে চান। তবে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা পাননি। পরে এ বিষয়ে পঞ্চগড় জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।

মুস্তাক আহমেদ বলেন, ফিলিং স্টেশনের মালিকপক্ষ গেজেটের কথা বলে দূরত্বভেদে পরিবহন খরচ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। কিন্তু পরিবহন খরচ যদি সরকারিভাবে নির্ধারিত ও পরিশোধযোগ্য হয়, তাহলে সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে তা নেওয়া হবে কেন? তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে ক্রেতাদের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

তবে ফিলিং স্টেশন মালিকদের সংগঠনটির নেতারা বলছেন, গেজেট অনুসরণ করেই এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রংপুর অঞ্চলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু হিরন বলেন, ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর জারি করা সরকারি গেজেট অনুযায়ী দূরত্বভেদে পরিবহন খরচ যুক্ত করে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। রংপুর বিভাগের প্রায় সব ফিলিং স্টেশনেই একই নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে।

ওই গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, ৯ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার প্রতিটি ট্যাংকলরি প্রথম ৪০ কিলোমিটারের জন্য ডিজেলের মূল্যের ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং এরপর প্রতি কিলোমিটারের জন্য নির্ধারিত হারে পরিবহন ভাড়া পাওয়ার কথা। তবে এই পরিবহন ভাড়া শেষ পর্যন্ত ক্রেতা, বিক্রেতা নাকি সরকার বহন করবে, সে বিষয়ে গেজেটে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দাবি করছেন।

এদিকে বিষয়টি সম্পর্কে আগে অবগত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন পঞ্চগড় জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক এ. এস. এম. মাসুম-উদ-দৌলা। তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এ জন্য ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতির নেতাদের ডাকা হয়েছে। সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।