আকমল আলীতে জুয়ার আসরের নেপথ্যে ‘পেশাদার জুয়াড়ি’ ওসমান গ্রেপ্তার
মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বিশেষ প্রতিবেদক চট্টগ্রাম:চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানাধীন আকমল আলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. ওসমান গনি (২৭) নামে এক ‘পেশাদার জুয়াড়ি’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ইপিজেড থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় জুয়ার আসর বসানোর নেপথ্যে দীর্ঘদিন ধরে ওসমানের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে।
উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর) মহোদয়ের নির্দেশনায় সহকারী পুলিশ কমিশনার (বন্দর জোন) মাজহারুল ইসলাম এবং ইপিজেড থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আতিকুর রহমান, বিপিএমের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মো. সহিদুল ইসলাম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান শেষে ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে আকমল আলী এলাকা থেকে ওসমান গনিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ওসমান গনি হাটহাজারী থানার ফতেপুর এলাকার মো. মনির হোসেন ও বিবি জোস্নার ছেলে। বর্তমানে তিনি ইপিজেড থানাধীন আকমল আলী রোড এলাকায় বসবাস করেন।
পুলিশের ভাষ্য, ওসমান একজন পেশাদার জুয়াড়ি। প্রশাসনের নজর এড়িয়ে ইপিজেড থানাধীন বিভিন্ন দুর্গম ও নির্জন এলাকায় টাকার বিনিময়ে জুয়ার আসর বসানোর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। জুয়ার আসর বসানোর জন্য ঘর তৈরি, জুয়াড়িদের অভয় দেওয়া, প্ররোচনা ও বিভিন্নভাবে সহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় জনসাধারণের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বলছে, ইপিজেড থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় জুয়ার আসর পরিচালনার নেপথ্যে ওসমানের প্রত্যক্ষ ভূমিকার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, জুয়া খেলা ও আয়োজনের অভিযোগে ওসমান গনির বিরুদ্ধে ইপিজেড থানায় তিনটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ইপিজেড থানার মামলা নং-১ দায়ের করা হয়। মামলাটি জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর ১৫/১৮/২৭ ধারায় করা হয়েছে।
এর আগে ৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখে ইপিজেড থানার মামলা নং-১৯-এ The Public Gambling Act, 1867-এর ৩/৪ ধারায় এবং ৯ জুন ২০২৫ তারিখে ইপিজেড থানার মামলা নং-৭-এ একই আইনের ৮ ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশের দাবি, একাধিক মামলা হওয়ার পরও জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার অভিযোগ রয়েছে ওসমানের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ মামলায় এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইপিজেড থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আতিকুর রহমান, বিপিএম বলেন, “ইপিজেড থানা এলাকায় জুয়া ও জুয়ার আসর কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। অপরাধী যতই কৌশলে আত্মগোপন করুক বা প্রশাসনের নজর এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুক, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জুয়ার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
ইপিজেড থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।








