চলতি বছরের জুনে তৎকালীন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগে মাজারের দানবাক্স ও দানের অর্থ প্রকাশ্যে গণনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২৩ জুনের প্রথম প্রকাশ্য গণনায় নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা এবং স্বর্ণ পাওয়া যায়।
পরবর্তী সময়েও প্রকাশ্যে গণনার কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। ১৫ আগস্টের গণনায় প্রায় ৭১ লাখ টাকা, স্বর্ণ, রৌপ্য ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা পাওয়া যায় বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
সারওয়ার আলমের উদ্যোগ নিয়ে সে সময় নানা আলোচনা ও মতভেদ তৈরি হলেও, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সরকারি পর্যায়েও পরবর্তীতে আলোচনা হয়েছে। ২৬ জুন মাজারের দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
তবে এর মধ্যেই ২১ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। প্রকাশিত সরকারি আদেশে তাঁর প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি; সেখানে ‘জনস্বার্থে’ প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে।
সারওয়ার আলমের সমর্থকেরা মনে করেন, মাজারের দানের অর্থ প্রকাশ্যে গণনার উদ্যোগ ছিল প্রশাসনিক স্বচ্ছতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আবার তাঁর কিছু সিদ্ধান্তের পদ্ধতি নিয়ে সমালোচনাও হয়েছিল। ফলে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও, দানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের প্রতি একটি নাগরিক বার্তা হলো—জনস্বার্থে কাজ করা সরকারি কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা, সততা ও উদ্যোগ যথাযথভাবে মূল্যায়নের বিষয়টি যেন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। সারওয়ার আলম বর্তমানে যে প্রশাসনিক অবস্থানে রয়েছেন, তাঁর বিষয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ দায়িত্ব ও পদায়নে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং পূর্বের কাজগুলোও বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।
কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার যথাযথ তদন্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। একইভাবে, কোনো কর্মকর্তা জনস্বার্থে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিলে সেই উদ্যোগের ইতিবাচক দিকগুলোও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের প্রকাশ্য গণনা এখন নিয়মিত প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে মানুষের আস্থা ও জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হতে পারে। আর এই প্রক্রিয়ার সূচনালগ্নে সারওয়ার আলমের উদ্যোগের কথা সিলেটবাসীর আলোচনায় থাকাটাও স্বাভাবিক।