ঢাকা | সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ - ৭:৩০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

সৌদি আরব আক্রান্ত হলে কি যুদ্ধে জড়াবে পাকিস্তান? নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাড়ছে প্রশ্ন

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Monday, September 21, 2026 - 11:49 am
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 21 বার
প্রতিবেদক: এমডি নাসির, নিউ জার্সি (যুক্তরাষ্ট্র)সৌদি আরবকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইয়েমেনের হুথিদের হামলার মধ্যে পাকিস্তান-সৌদি আরব-তুরস্কের নতুন যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—সৌদি আরবের ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলা হলে পাকিস্তান কি সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে?

২০২৬ সালের আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তির মূল নীতির মধ্যে রয়েছে—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা।

পাকিস্তানের অবস্থান কী?

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী সম্প্রতি বলেছেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতি কূটনৈতিক ও বাস্তব—প্রয়োজনে “যেকোনো মাত্রায়” সহযোগিতার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।

তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য কিছুটা সতর্ক। সেপ্টেম্বরের শুরুতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, হুথিদের হামলার জবাবে পাকিস্তানের কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে তখন আলোচনা চলছিল না; তবে চুক্তির অধীনে প্রয়োজন হলে পাকিস্তান তার দায়িত্ব পালন করবে বলে জানানো হয়।

যুদ্ধ নাকি প্রতিরক্ষা সহায়তা?

এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। পাকিস্তানের সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মক্কা চুক্তিটি মূলত প্রতিরক্ষামূলক এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে সামরিক জোট হিসেবে তৈরি করা হয়নি। এতে প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, সৌদি ভূখণ্ডে হামলা অব্যাহত থাকলে চুক্তির বাস্তব প্রয়োগ কীভাবে হবে—সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পাকিস্তান একই সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা অংশীদার এবং ইরানের সঙ্গে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। ফলে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়া ইসলামাবাদের জন্য কূটনৈতিকভাবে জটিল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

সামনে কী হতে পারে?

সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে পাকিস্তানের ওপর চুক্তিগত ও কৌশলগত চাপ বাড়তে পারে। তবে এ মুহূর্তে পাকিস্তান সরাসরি ইয়েমেন যুদ্ধে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন সরকারি ঘোষণা নেই।

ফলে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় পাকিস্তানের অঙ্গীকার কি সীমাবদ্ধ থাকবে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য, প্রশিক্ষণ ও সামরিক সহায়তায়, নাকি পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে পাকিস্তান সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেবে?

Inline image