নিম্নমানের ইট ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক: এলজিআরডি এক্সিয়েনের সামনেই ইউপি চেয়ারম্যানকে পিটানোর হুমকি
স্টাফ রিপোর্টার:পটুয়াখালী সদর উপজেলার লাউকাঠী ইউনিয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিআরডি) চলতি অর্থবছরের গ্রামীণ সড়ক সংস্কার ও নির্মাণ কাজে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নিচুমানের ইট ব্যবহার করে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার চেষ্টা করায় স্থানীয় জনসাধারণ ও ইউপি চেয়ারম্যানের বাধার মুখে বর্তমানে উন্নয়ন কাজটি বন্ধ রয়েছে।
অদ্য ১ লা অক্টোবর বেলা ১২ টার সময় পটুয়াখালী এলজিআরডি অফিসের এক্সিয়েনের কক্ষে বসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলজিআরডি অফিসের আওতায় পরিচালিত এই সড়ক নির্মাণ কাজটির ঠিকাদারি তদারকি করছেন বিএনপি নেতা আকরাম খাঁন ও ইয়াকুব। অভিযোগ রয়েছে, কাজ শুরুর পর থেকেই শিডিউল না মেনে সেখানে অত্যন্ত নিম্নমানের ও ৩ নম্বর ইট (ঝামা ও কাঁচা ইট) ব্যবহার করা হচ্ছিল। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে লাউকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইলিয়াস বাচ্চু সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে অনিয়মের সত্যতা পান এবং টেকসই কাজের স্বার্থে স্থানীয়দের সাথে নিয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন।
পরবর্তীতে এ সংক্রান্ত অনিয়ম ও কাজ বন্ধের বিষয়ে বক্তব্য নিতে সংবাদকর্মীরা এলজিআরডি-র নির্বাহী প্রকৌশলীর (এক্সিয়েন) কার্যালয়ে যান। সেখানে এক নজিরবিহীন ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ উঠেছে, নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে বসেই সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে ঠিকাদার ইলিয়াস বাচ্চুর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং তাঁকে দেখে নেওয়া ও মারধরের হুমকি দেন। দায়িত্বশীল একজন সরকারি কর্মকর্তার সামনে প্রকাশ্যে জনপ্রতিনিধিকে পিটানোর এই হুমকির পর উপস্থিত সকলের মাঝে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার বিষয়ে লাউকাঠী ইউপি চেয়ারম্যান ইলিয়াস বাচ্চু বলেন, “জনগণের টাকায় উন্নয়ন কাজ হবে টেকসই ও মানসম্মত। এলজিআরডির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কাজে ৩ নম্বর ইট ব্যবহার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি জনগণের স্বার্থে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় এবং কাজ বন্ধ রাখতে বলায় ঠিকাদারেরা ক্ষিপ্ত হয়েছে। একজন নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিসে বসে প্রকাশ্যে আমাকে মারধরের হুমকি প্রমাণ করে তাদের দাপট কতটা।”
অভিযুক্ত ঠিকাদারদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা প্রথমে ইটের মান নিয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এবং পরবর্তীতে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বলেন,আমাদের কাছে চেয়ারম্যান ইলিয়াস বাচ্চু টাকা দাবী করে,সে কিসের বিএনপি,আগে ছিল জাসদ, এরপর জামায়াত, ইসলামি আন্দোলন দল করতো এখন দাবী করে বিএনপি কিসের বিএনপি এছাড়াও বিভিন্ন মন্তব্য করেন এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। চড়থাপ্পড় এর বিষয়ে জানতে চাইলে কোন সদুত্তর মেলেনি। এসময় তিনি এক্সিয়েনের
সামনে আরো বলেন, আমি কাজ করি ১০০% আমার কাজে কে ভুল ধরবে কার এতো বুকের পাঠা আছে।
এদিকে এলজিআরডি-র নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, উন্নয়ন কাজে কোনো ধরনের নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ নেই। অনিয়মের খবর পেয়ে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে নিজ কার্যালয়ে মারধরের হুমকির বিষয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
সরকারি প্রকল্পের কাজের গুণগত মান বজায় রাখা এবং জনপ্রতিনিধিকে প্রকাশ্যে হুমকির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সুশিল সমাজ ও এলাকাবাসী।








