শ্রীমঙ্গলের জলাভূমিতে পোনামাছ অবমুক্ত
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধি, জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিভিন্ন জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের বাস্তবায়নে উপজেলার অভ্যন্তরীণ জলাভূমি, বর্ষাপ্রবণ ধানক্ষেত, প্লাবনভূমি ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে এ পোনামাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় জলাশয়গুলোতে দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বংশবিস্তার বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য মাছের সহজলভ্যতা বৃদ্ধি এবং জলজ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পোনামাছ অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার-৪) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) এমপি।
এ সময় উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মৎস্যজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক জলাভূমিতে পানিদূষণ, জলাশয় ভরাট, অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত মাছ আহরণ, অবৈধ জাল ব্যবহার এবং প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরার কারণে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উৎপাদন ও প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় জলাশয়ে পরিকল্পিতভাবে পোনামাছ অবমুক্ত করা হলে মাছের
প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি রাজস্ব বাজেটের আওতায় পোনামাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, বিলুপ্তপ্রায় ও দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণ এবং মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে জলাভূমিনির্ভর মানুষের জীবিকা ও পুষ্টির চাহিদা পূরণেও এ ধরনের কর্মসূচি ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় মৎস্যজীবীরা বলেন, বর্ষা মৌসুমে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন জলাভূমি ও প্লাবনভূমিতে বিপুল পরিমাণ পানি জমে। এসব জলাশয় দেশীয় মাছের প্রজনন ও বিচরণের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। সেখানে নিয়মিত পোনামাছ অবমুক্ত করার পাশাপাশি অবৈধ ও ক্ষতিকর জাল ব্যবহার বন্ধ করা গেলে দেশীয় মাছের উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব।
সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন,
শুধু পোনামাছ অবমুক্ত করলেই হবে না; অবমুক্ত করা মাছ যাতে নিরাপদে বেড়ে উঠতে পারে, সে জন্য জলাশয়ে মাছের অভয়াশ্রম তৈরি, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা নিয়ন্ত্রণ, ক্ষতিকর জাল ব্যবহার বন্ধ এবং জলাভূমির স্বাভাবিক পরিবেশ সংরক্ষণ জরুরি।
মৎস্যসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং জলাশয়গুলোর যথাযথ ব্যবস্থাপনা করা হলে শ্রীমঙ্গলে দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি প্রাকৃতিক জলজ পরিবেশও সমৃদ্ধ হবে।








