কর্নেলের ‘করনেল ৭’ মামলায় প্রসিকিউটরদের সামনে কঠিন আইনি চ্যালেঞ্জ
প্রচ্ছদ » » কর্নেলের ‘করনেল ৭’ মামলায় প্রসিকিউটরদের সামনে কঠিন আইনি চ্যালেঞ্জ
অভিযোগটি ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবরের ঘটনা নিয়ে। ‘Jane Doe’ নামে পরিচিত ওই নারী অভিযোগ করেছেন, কর্নেলের Chi Phi ভ্রাতৃত্বের (fraternity) বাড়িতে তিনি যৌন নিপীড়নের শিকার হন। তাঁর দাবি, তিনি তখন মদ ও অন্যান্য মাদক গ্রহণ করেছিলেন এবং পরে কেটামিনও গ্রহণ করেন। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে আরও কয়েকজন সেখানে এসে যৌন নিপীড়নে অংশ নেন।
কেন মামলাটি কঠিন হতে পারে
নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা প্রমাণ করতে প্রসিকিউশনকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মোকাবিলা করতে হবে। বিশেষ করে ওই নারী ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ পর ক্যাম্পাস পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন এবং পরবর্তী সময়ে অভিযুক্তদের একজনের সঙ্গে তাঁর টেক্সট যোগাযোগও হয়েছিল—এসব বিষয় ডিফেন্স আইনজীবীরা আদালতে তুলে ধরতে পারেন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সম্মতি (consent) এবং মাদক বা অ্যালকোহলের প্রভাবে একজন ব্যক্তি কতটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা হারিয়েছিলেন—এটি কীভাবে নিউইয়র্কের আইনে প্রমাণিত হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘটনার সময় কে কী করেছিলেন এবং প্রত্যেক অভিযুক্ত ব্যক্তি যৌন নিপীড়নে কীভাবে জড়িত ছিলেন—এগুলো আলাদাভাবে প্রমাণ করাও প্রসিকিউশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ
তদন্তে একটি Snapchat গ্রুপের বার্তা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার রাতে ওই গ্রুপে একজন নারীকে যৌন সম্পর্কের জন্য ‘উপলব্ধ’ বলে ইঙ্গিত করে বার্তা দেওয়া হয়েছিল। প্রসিকিউশনের জন্য এই বার্তা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তবে আদালতে এর প্রমাণমূল্য এবং প্রত্যেক অভিযুক্তের সঙ্গে এর সম্পর্ক কী—সেটিও নির্ধারণ করতে হবে।
তদন্ত এখন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের হাতে
স্থানীয় Tompkins County District Attorney Matthew Van Houten-এর অফিস প্রথমে ২০২৪ সালে ফৌজদারি অভিযোগ আনেনি। পরে নতুন তথ্য ও ব্যাপক জনআলোচনার মধ্যে তদন্ত পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এরপর নিউইয়র্কের গভর্নর Kathy Hochul নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে Attorney General Letitia James-কে এই মামলায় বিশেষ প্রসিকিউটর নিয়োগ করেন। James-এর অফিস জানিয়েছে, তারা তথ্য পর্যালোচনা করবে, প্রমাণ সংগ্রহ করবে, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে এবং প্রমাণ যথেষ্ট হলে ফৌজদারি মামলা পরিচালনা করবে।
কর্নেলের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা
Cornell University জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব Title IX তদন্ত পরিচালনা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট Michael Kotlikoff-এর বক্তব্য অনুযায়ী, সাত অভিযুক্তের মধ্যে দুজনকে বহিষ্কার করা হয়, দুজনকে অন্তত দুই সেমিস্টারের জন্য সাময়িক বহিষ্কার করা হয়, একজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই তার পড়াশোনা শেষ হয়ে যায় এবং দুজনকে যৌন অসদাচরণের অভিযোগে দায়ী করা হয়নি। Chi Phi-এর ওই অধ্যায়কে ক্যাম্পাস থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত সাতজনের কারও বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ (criminal charge) দায়ের করা হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত নয় এবং অভিযুক্তদের কয়েকজনের আইনজীবী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দেওয়ানি মামলাটিও আলাদাভাবে চলমান রয়েছে।


