পেশাগত জীবনে তিনি অতিরিক্ত আইজিপি (অবঃ) পদমর্যাদায় অবসর গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, বাংলাদেশের তদন্ত সংস্থার কোঅর্ডিনেটর (গ্রেড-১) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি Assistant Superintendent of Police (ASP) হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে ধাপে ধাপে তিনি অতিরিক্ত আইজিপি (অবঃ) পদে উন্নীত হন।
পেশাগত জীবনে তাঁর দায়িত্ব ও অবস্থান যতই পরিবর্তিত হয়েছে, মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের জায়গাটি ততটা বদলায়নি। আমার সঙ্গে প্রায় ৩৫ বছরের সম্পর্ক তারই একটি উদাহরণ।
দীর্ঘ এই সময়ে তাঁর সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক অটুট রয়েছে। পদ-পদবি বা সামাজিক অবস্থানের পরিবর্তন আমাদের সম্পর্কের মধ্যে কোনো দূরত্ব তৈরি করেনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী
আনসার উদ্দিন খান পাঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মতো দায়িত্বপূর্ণ পেশার পাশাপাশি ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর আগ্রহ তাঁর ব্যক্তিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
পেশার বাইরে প্রকৃতি ও পাখির প্রতি ভালোবাসা
কঠোর পেশাগত জীবনের বাইরে আনসার উদ্দিন খান পাঠানের আরেকটি পরিচয় রয়েছে—তিনি একজন প্রকৃতিপ্রেমী ও পাখিপ্রেমী আলোকচিত্রী।
তাঁর তোলা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির পাখির ছবি নিয়ে রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
চার দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীতে তাঁর ক্যামেরায় ধারণ করা বাংলাদেশের নদী, প্রকৃতি ও পাখির বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য তুলে ধরা হয়েছে।
দর্শনার্থীরা প্রদর্শনীতে এসে শুধু পাখি ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগই পাচ্ছেন না, একই সঙ্গে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কেও সচেতন হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
আমার চোখে আনসার উদ্দিন খান পাঠান
মানুষের পরিচয় শুধু তাঁর পদ-পদবি দিয়ে নির্ধারিত হয় না। দীর্ঘ সময়ের আচরণ, মানুষের প্রতি সম্মান, সম্পর্কের প্রতি আন্তরিকতা এবং ব্যক্তিত্বই একজন মানুষকে আলাদা করে চেনায়।
প্রায় ৩৫ বছরের পরিচয়ে আমার চোখে আনসার উদ্দিন খান পাঠান এমনই একজন মানুষ। কর্মজীবনের শুরুতে একজন ASP থেকে অতিরিক্ত আইজিপি (অবঃ) এবং বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কোঅর্ডিনেটর (গ্রেড-১)—তাঁর দীর্ঘ পথচলা নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য পেশাগত যাত্রা।
একদিকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে প্রকৃতি ও পাখির প্রতি গভীর ভালোবাসা—এই দুইয়ের সমন্বয়েই যেন তৈরি হয়েছে তাঁর বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব।
আমার কাছে তিনি শুধু একজন সাবেক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা নন; তিনি একজন মেধাবী মানুষ, দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং প্রকৃতির সৌন্দর্যকে ক্যামেরায় ধরে রাখা একজন নিবেদিত আলোকচিত্রী।