ব্যাংকিং ও আর্থিক তথ্য প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠান Bankrate-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজের জাতীয় গড় সুদের হার ছিল ৭.৫৫ শতাংশ। অন্যদিকে, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত আবাসন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান Freddie Mac-এর সাপ্তাহিক জরিপে ৮ অক্টোবর এই হার ছিল ৭.৪০ শতাংশ। দুই প্রতিষ্ঠানের হিসাবের পদ্ধতি ও তথ্য সংগ্রহের সময় আলাদা হওয়ায় এ পার্থক্য দেখা যায়।
বাড়ি কেনার খরচ বাড়ছে
মর্টগেজের সুদের হার বেশি হলে বাড়ি কেনার জন্য ঋণ নেওয়ার খরচ বেড়ে যায়। একই দামের বাড়ি কিনলেও ক্রেতাকে ঋণের সুদ বাবদ বেশি অর্থ দিতে হতে পারে। এর সঙ্গে সম্পত্তি কর, বাড়ির বিমা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ যুক্ত হলে মাসিক ব্যয়ের চাপ আরও বাড়ে।
বিশেষ করে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির মতো ব্যয়বহুল এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোর জন্য বাড়ি কেনার পাশাপাশি দৈনন্দিন খরচ সামলানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
খাদ্যপণ্যের দামও বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত আগস্ট ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ভোক্তা মূল্যসূচক এক বছরে ৩.৪ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে খাদ্যপণ্যের সামগ্রিক দাম বেড়েছে ২.৭ শতাংশ। সুপারমার্কেট থেকে কেনা খাবারের দাম বেড়েছে ২.২ শতাংশ। তবে আগস্টে বাড়িতে ব্যবহারের খাদ্যপণ্যের দাম আগের মাসের তুলনায় অপরিবর্তিত ছিল।
অন্যদিকে, জ্বালানি খাতে মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ব্যয়ে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। আগস্টে জ্বালানির মূল্যসূচক এক বছরে ১৬.৩ শতাংশ বেড়েছে। গ্যাসোলিনের মূল্যসূচক বেড়েছে ২৭.৪ শতাংশ। এসব পরিসংখ্যান দেখায়, মূল্যস্ফীতির চাপ সব খাতে সমান নয়; কিছু খাতে বৃদ্ধি তুলনামূলক বেশি।
মধ্যবিত্ত পরিবারের বাজেটে চাপ
মর্টগেজ বা বাড়িভাড়া, খাবার, গাড়ির জ্বালানি, স্বাস্থ্যবিমা, বিদ্যুৎ এবং সন্তানের শিক্ষার ব্যয় মেটানোর পর অনেক পরিবারের সঞ্চয়ের সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের আয় নির্দিষ্ট, তাঁদের জন্য ব্যয় বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা কঠিন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ি কেনার আগে শুধু মর্টগেজের সুদের হার বিবেচনা করলেই হবে না। ঋণের মাসিক কিস্তি, সম্পত্তি কর, বিমা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিবারের অন্যান্য নিয়মিত ব্যয় হিসাব করে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন ও নিত্যপণ্যের বাজারে সুদের হার এবং মূল্যস্ফীতির পরিবর্তন আগামী দিনগুলোতে পরিবারগুলোর আর্থিক পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।