ঢাকা | অক্টোবর ১৫, ২০২৬ - ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

নিউইয়র্কের গভর্নর নির্বাচনের বিতর্কে কে জিতলেন, কে হারলেন—বিশ্লেষকদের মতভেদ

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Wednesday, October 14, 2026 - 4:35 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 19 বার
প্রতিবেদক: এমডি নাসির, নিউ জার্সি (যুক্তরাষ্ট্র)যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনের আগে একমাত্র টেলিভিশন বিতর্কে মুখোমুখি হয়েছেন বর্তমান ডেমোক্র্যাট গভর্নর ক্যাথি হোচুল এবং রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রুস ব্লেকম্যান। মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই বিতর্কে অভিবাসন নীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, বিদ্যুতের বিল, অপরাধ দমন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে দুই প্রার্থী তীব্র বাক্যবিনিময়ে জড়ান।

আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে এই বিতর্ককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিতর্কে কে বিজয়ী হয়েছেন, সে বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

ব্লেকম্যানের আক্রমণ, হোচুলের পাল্টা জবাব

রিপাবলিকান প্রার্থী ব্রুস ব্লেকম্যান গভর্নর হোচুলের প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, নিউইয়র্কে উচ্চ কর, বাড়তে থাকা বিদ্যুতের বিল এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সাধারণ মানুষকে চাপে ফেলছে। তাঁর অভিযোগ, হোচুলের নীতির কারণে অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন খরচ বেড়েছে।

অন্যদিকে, হোচুল তাঁর প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি জননিরাপত্তা, জ্বালানি প্রকল্প এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। একই সঙ্গে ব্লেকম্যানের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ককে বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে আসেন।

অভিবাসন নীতি নিয়ে তীব্র বিতর্ক

বিতর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল অভিবাসন ও ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রম।

হোচুল নিউইয়র্কে অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর কার্যক্রমের সমালোচনা করেন। অন্যদিকে, ব্লেকম্যান অঙ্গরাজ্যের তথাকথিত ‘স্যাংচুয়ারি’ নীতিকে দায়ী করে বলেন, এসব নীতির কারণে অভিবাসন আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

অপরাধ দমনের বিষয়েও দুই প্রার্থীর মধ্যে মতবিরোধ দেখা যায়। ব্লেকম্যান জামিন ও ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সংস্কারের সমালোচনা করেন। হোচুল পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, তাঁর প্রশাসন বন্দুক সহিংসতা ও দোকানে চুরির মতো অপরাধ মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিয়েছে।

বিদ্যুতের বিল ও জীবনযাত্রার ব্যয়

নিউইয়র্কবাসীর ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে ব্লেকম্যান হোচুল প্রশাসনকে দায়ী করেন। তাঁর বক্তব্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির খরচ কমাতে বর্তমান প্রশাসন যথেষ্ট কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি।

হোচুল পাল্টা দাবি করেন, জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নে ফেডারেল সরকারের বাধা রয়েছে এবং অঙ্গরাজ্যের ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানো জরুরি।

এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডেটা সেন্টার স্থাপন, কৃষকদের সমস্যা এবং কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট একটি বিতর্কিত ঘটনা নিয়েও দুই প্রার্থী পরস্পরকে আক্রমণ করেন।

কে জিতলেন বিতর্কে?

বিতর্কের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন একরকম ছিল না। রিপাবলিকান কৌশলবিদ ও. বি. মারে এবং রব রায়ান ব্লেকম্যানকে এগিয়ে রাখেন। তাঁদের মতে, তিনি হোচুল প্রশাসনের দুর্বলতা তুলে ধরে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।

অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট কৌশলবিদ অ্যালিসা ক্যাস হোচুলের পারফরম্যান্সকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেন। তাঁর মতে, হোচুল ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিকে নজর দিয়েছেন, যেখানে ব্লেকম্যান পুরোনো রাজনৈতিক বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক লিজ বেঞ্জামিন ও শৌন ডোনাহিউয়ের মূল্যায়নে, বিতর্কটি অনেকটা সমানে সমান হয়েছে। তাঁদের মতে, দুই প্রার্থীই বড় ধরনের ভুল এড়াতে পেরেছেন, কিন্তু কেউই এমন অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি, যা নিশ্চিতভাবে তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করার মতো।

নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলবে এই বিতর্ক?

বিতর্কে দুই প্রার্থীর মধ্যে নীতিগত ও রাজনৈতিক পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে। ব্লেকম্যান জীবনযাত্রার ব্যয়, অপরাধ দমন ও অভিবাসন নীতিকে সামনে এনেছেন। অন্যদিকে, হোচুল তাঁর প্রশাসনের অবস্থান তুলে ধরে ট্রাম্পের সঙ্গে ব্লেকম্যানের সম্পর্ককে নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

প্রকাশিত জনমত জরিপগুলোতে এখনো হোচুল এগিয়ে রয়েছেন। ফলে এই বিতর্কের পর নির্বাচনী সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে নিউইয়র্কের ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেন, তা নির্ধারণে জীবনযাত্রার ব্যয়, জননিরাপত্তা, অভিবাসন এবং অর্থনৈতিক নীতির মতো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।