শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ওয়েইন কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসার্সের তত্ত্বাবধানে বিতর্কিত ব্যালটগুলো গণনা করা হয়। নতুন গণনার ফল অনুযায়ী, মুহিত মাহমুদ পেয়েছেন ২ হাজার ৮৯ ভোট। অন্যদিকে, অ্যাডাম আলহারবি পেয়েছেন ২ হাজার ৭৭ ভোট। ফলে মাত্র ১২ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে গেছেন মাহমুদ।
বিতর্কিত ব্যালট ঘিরে আইনি লড়াই
২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে আলহারবি ১১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পরদিন সিটি ক্লার্কের কার্যালয়ে ৩৭টি অনুপস্থিত ব্যালট পাওয়া যাওয়ায় ফলাফল নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। ব্যালটগুলোর সংরক্ষণ ও হেফাজত-প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সেগুলো প্রাথমিক গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
বিতর্কের নিষ্পত্তি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন মুহিত মাহমুদ। পরবর্তী সময়ে মিশিগান কোর্ট অব আপিলের রায়ের পর আদালতের নির্দেশে ব্যালটগুলো গণনা করা হয়। নতুন গণনায় মাহমুদ এগিয়ে গেলেও নির্বাচনের ফল নিয়ে আইনি বিরোধ এখনো অব্যাহত রয়েছে।
মেয়র হওয়ার পথে আইনি জটিলতা
নতুন গণনায় পিছিয়ে পড়লেও বর্তমান মেয়র অ্যাডাম আলহারবি পরাজয় মেনে নেননি। তিনি বিতর্কিত ব্যালটের সংরক্ষণ এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পাশাপাশি, নতুন ফলাফল চ্যালেঞ্জ করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, মুহিত মাহমুদের হ্যামট্রামিকে বসবাসের যোগ্যতা নিয়েও আইনি প্রশ্ন উঠেছে। আলহারবির পক্ষের দাবি, মাহমুদ শহরের বাইরে ট্রয় এলাকায় বসবাস করেন। তবে মাহমুদ এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি হ্যামট্রামিকের বাসিন্দা।
বসবাসের যোগ্যতা নিয়ে মামলা চলমান থাকায় নতুন ফলাফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়ন করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে ২২ অক্টোবর আদালতে শুনানির কথা রয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর নির্ভর করছে শেষ পর্যন্ত কে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
বাংলাদেশি-আমেরিকানদের দৃষ্টি হ্যামট্রামিকের দিকে
হ্যামট্রামিক শহরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি-আমেরিকানের বসবাস। এ কারণে শহরটির মেয়র নির্বাচন বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যেও বিশেষ আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
মুহিত মাহমুদ চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হলে তিনি হ্যামট্রামিকের প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মেয়র হতে পারেন। তাঁর সম্ভাব্য বিজয় যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হয়ে উঠতে পারে।
তবে মাত্র ১২ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও মাহমুদের বিজয় এখনো চূড়ান্ত নয়। আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত, বিতর্কিত ব্যালটের বৈধতা এবং নির্বাচনী ফলাফলের আনুষ্ঠানিক প্রত্যয়নই নির্ধারণ করবে হ্যামট্রামিকের পরবর্তী মেয়র কে হবেন।