কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ব্যবধান ১২ পয়েন্ট
জরিপ অনুযায়ী, আজই কংগ্রেস নির্বাচন হলে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের এবং ৩৫ শতাংশ রিপাবলিকান প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। অর্থাৎ, ডেমোক্র্যাটরা ১২ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। দুই সপ্তাহ আগের জরিপে এই ব্যবধান ছিল ৭ পয়েন্ট—ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ৪৪ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের পক্ষে ৩৭ শতাংশ।
নারী ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৫০ শতাংশ, বিপরীতে রিপাবলিকানদের ৩২ শতাংশ। পুরুষ ভোটারদের মধ্যেও ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে রয়েছেন, তবে ব্যবধান তুলনামূলক কম।
অর্থনীতি ও জ্বালানির দাম নিয়ে অসন্তোষ
জরিপে ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে। উত্তরদাতাদের ৬৮ শতাংশ অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মধ্যে স্বঘোষিত রিপাবলিকান ভোটারও রয়েছেন ৩৭ শতাংশ।
অর্থনীতি পরিচালনায় কোন দলকে বেশি উপযুক্ত মনে করেন—এমন প্রশ্নে ৪০ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের এবং ৩৩ শতাংশ রিপাবলিকানদের পক্ষে মত দিয়েছেন।
জরিপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাতের পর জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়ের ওপর চাপ ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনে কী প্রভাব পড়তে পারে?
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে ভোটারদের মনোভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ অথবা সিনেটের যেকোনো একটির নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পের বাকি মেয়াদের আইন প্রণয়ন ও নীতিগত কর্মসূচি বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে।
তবে জাতীয় পর্যায়ের জরিপের ফল দিয়ে সরাসরি নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করা যায় না। কারণ, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অঙ্গরাজ্য, নির্বাচনী এলাকা এবং স্থানীয় পরিস্থিতির প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ।
জরিপের তথ্য
রয়টার্স/ইপসোসের এই জরিপ ১৬ থেকে ১৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত অনলাইনে পরিচালিত হয়। এতে মোট ১ হাজার ৬৭৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক অংশ নেন; তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ২৭৯ জন নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন। সামগ্রিক ফলাফলের নমুনাগত ত্রুটিসীমা প্রায় ২ শতাংশ পয়েন্ট এবং নিবন্ধিত ভোটারদের ক্ষেত্রে প্রায় ৩ শতাংশ পয়েন্ট।
জরিপের ফলাফল ভোটারদের বর্তমান মনোভাবের একটি চিত্র তুলে ধরে; তবে নির্বাচনের আগে জনমত পরিবর্তিত হতে পারে।