দৈনিক ইত্তেফাকের ২১ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি প্রকাশ এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করার কথা রয়েছে। নিবন্ধন কার্যক্রম ৩০ দিন চালু রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ কেন?
নির্ধারিত সময়ে ডিভি-২০২৭ কর্মসূচির নিবন্ধন শুরু না হওয়ায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। রেড ঈগল ল নামের একটি আইন প্রতিষ্ঠান এ মামলা করে। গত ১৪ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতের বিচারক জিনসুক ওহতা নিবন্ধনপ্রক্রিয়া পুনরায় চালুর নির্দেশ দেন।
তবে এই নির্দেশের পরও আইনি জটিলতা পুরোপুরি কাটেনি। মার্কিন প্রশাসন আদালতের আদেশ স্থগিত করার আবেদনসহ আপিল করেছে। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করলে নিবন্ধন শুরুর সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
বাংলাদেশিরা কি আবেদন করতে পারবেন?
বাংলাদেশি আগ্রহীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এটি। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ডিভি লটারির যোগ্য দেশের তালিকার বাইরে রয়েছে। ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি এই কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করায় দেশটি পরবর্তী সময়ে যোগ্যতা হারায়।
ডিভি কর্মসূচিতে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার কম—এমন দেশগুলোর নাগরিকদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। তাই লটারি পুনরায় চালু হলেও বাংলাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ্য হয়ে যাবে না। ২০২৭ সালের জন্য মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত যোগ্য দেশের তালিকাই এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
ডিভি লটারিতে অংশগ্রহণের জন্য সাধারণত উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হয়। বিকল্প হিসেবে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী পেশায় প্রয়োজনীয় কাজের অভিজ্ঞতাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
লটারিতে নির্বাচিত হওয়া মানেই গ্রিন কার্ড পাওয়া নিশ্চিত নয়। নির্বাচিত ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, কাগজপত্র, নিরাপত্তা যাচাই এবং অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হয়।
আবেদনকারীদের জন্য সতর্কবার্তা
আগ্রহীদের মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং যোগ্য দেশের তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নিবন্ধনের তারিখ ও নিয়ম নিশ্চিত হওয়ার আগে কোনো অননুমোদিত ওয়েবসাইট বা মধ্যস্থতাকারীর কাছে টাকা দেওয়া উচিত নয়।
ডিভি লটারি সম্পর্কে সরকারি তথ্য পাওয়া যাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে: https://dvprogram.state.gov/
সব মিলিয়ে, ডিভি-২০২৭ কর্মসূচি পুনরায় চালুর বিষয়ে আদালতের নির্দেশ আশার সঞ্চার করলেও বাংলাদেশিদের জন্য আবেদন করার সুযোগ এখনো নিশ্চিত নয়। সরকারি ঘোষণা এবং চলমান আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ওপরই নির্ভর করছে পরবর্তী পরিস্থিতি।