ঢাকা | মার্চ ১১, ২০২৬ - ১০:৫৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

ভাইয়ের নির্যাতনের কবল থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেন প্রতিবন্ধী নারী

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Thursday, May 18, 2023 - 5:37 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 101 বার

স্টাফ রিপোর্ট: কুলাউড়ার রাউৎগাঁওয়ে চাচাতো ভাইয়ের নির্যাতনের কবল থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেন এক অসহায় মহিলা। দীর্ঘদিন থেকে নির্যাতনের পাশাপাশি নিজের ভিটা-মাটি ও সম্পদ থেকে জলিকা বেগম (৫৮) নামক ওই মহিলাকে বঞ্চিত করতে নানা পায়তারা করছে চাচাতো ভাই আব্দুল খালিক ও তার স্ত্রী সাহিনারা বেগম। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে গ্রামবাসী একাধিক সালিশ বৈঠক করলেও সুরাহা না হওয়ায় গত ১৭ মে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে নির্যাতিতা জলিকা বেগম লিখিত অভিযোগ করেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং কুলাউড়া থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে একজন উপ-পরিদর্শককে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বেশ আলোচনা চলছে। নির্যাতিতা ওই মহিলা বর্তমানে পঞ্চায়েতের এক মুরব্বির বাড়িতে আশ্রয়ে আছেন।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, রাউৎগাঁও ইউনিয়নের কবিরাজী গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত প্রাইমারি শিক্ষক আব্দুল খালিকের চাচাতো বোন হন জলিকা বেগম। জলিকা বেগমের কোন ভাই বোন নেই। স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ হওয়ায় তিনি বাপের বাড়িতে থাকেন। ১৯ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে বেশ আগেই মারা গেছে। পৈত্তিক সূত্রে জলিকা বেগমের প্রায় সাড়ে চার একর স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। একই বাড়িতে চাচাতো ভাইয়েরও অবস্থান। একা হওয়ায় ভাইয়ের আশ্রয়ে ছিলেন। কিন্তুু চাচাতো ভাই আব্দুল খালিক ও তার স্ত্রী সাহিনারা বেগম প্রায়ই শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। কিছুদিন পূর্বে এলাকায় চাউর হয় জলিকা বেগমের কোন সম্পদ নাই। গত ১১ মে জলিকা বেগমের ওপর নির্যাতন চালায় চাচাতো ভাই ও তার স্ত্রী।

জলিকা বেগমের অভিযোগ তাকে ওইদিন মারধর করার পর একটি খালের পাড়ে নিয়ে রেখে আসেন নির্যাতনকারীরা। বিষয়টি তিনি স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের মুরব্বিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করেন। এ নিয়ে এলাকাবাসী কয়েকদফা সালিশ বৈঠক করলেও কোন সুরাহা হয়নি। অবশেষে নির্যাতিতা জলিকা বেগম স্বশরীরে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান খোন্দকারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান খোন্দকার জানান, নির্যাতিতা মহিলার আবেদনের প্রেক্ষিতে দ্রুত তদন্তক্রমে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদান করলে ১৮ মে বৃহস্পতিবার তিনি সরেজমিন বিষয়টি তদন্ত করেছেন বলে জানা গেছে।

এব্যাপারে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সৌমিত্র কর্মকার জানান, ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। দ্রুত প্রতিবেদন দাখিল করবো।