কেরানীগঞ্জে ঢাকার প্রবেশ পথের ৩ পয়েন্টে পুলিশের নজির বিহীন তল্লাশি
কেরানীগঞ্জ(ঢাকা) প্রতিনিধি:বিএনপি’র মহাসমাবেশ কে কেন্দ্র করে কেরানীগঞ্জে রাজধানী ঢাকার প্রবেশপথের ৩ পয়েন্টে পুলিশ নদীর বিহীন তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করছে। এসময় প্রায় অর্ধ শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীকে আটক করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ।
ঘাটার চরে বছিলা সেতুর প্রবেশ মুখে, কদমতলী গোল চত্বরে বুড়িগঙ্গা দ্বিতীয় সেতুর প্রবেশ মুখে এবং হাসনাবাদে বুড়িগঙ্গা প্রথম সেতুর প্রবেশ মুখে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে বাস,মিনিবাস,মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার ও সিএনজি অটো রিক্সা থামিয়ে ব্যাপকভাবে তল্লাশি করা হয় । এ সময় প্রতিটি যাত্রীর মোবাইল ও দেহ তল্লাশি করা হয়। এতে যাকে সন্দেহ হচ্ছে তাকেই আটক করা হচ্ছে। খুব সকাল থেকেই এইতো আল্লাহ এই তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়। তল্লাশি অভিযান চলার সময় সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এদিকে বুড়িগঙ্গা নদীর দোলেশ্বর থেকে শুরু করে আটি বাজার পর্যন্ত সকল খেয়াঘাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বুড়িগঙ্গা নদীতে চলাচলকারী সকল প্রকার নৌযান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মেহেদী হাসান নামে এক নৌ যাত্রী বলেন প্রতিদিন আমরা এই নৌকা পথেই নদী পার হয়ে পুরান ঢাকায় আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য কেন্দ্রে যাই।কিন্তু আজকে নৌকা বন্ধ থাকায় আমরা চরম দুর্ভোগে পড়েছি। আগানগর ঘাট থেকে মিরপুর হাসপাতাল ঘাটে চলাচল কারি এক নৌকার মাঝি রুহুল আমিন বলেন, প্রতিদিন নৌকা চালিয়ে আমরা যা রোজগার করি তা দিয়েই আমাদের সংসার চালাই। কিন্তু ক্ষমতাসীন নেতাদের আদেশেই গত শুক্রবার থেকেই আমাদের এই ঘাটে নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে । এতে এই দুইদিন আমাদের এই রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে বাস মিনি মাছ ও সিএনজি অটোরিক্সার অধিকাংশ যাত্রীরা জানিয়েছেন, তারা এই তল্লাশীর শিকার হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।এদের অনেকেই তাদের ব্যক্তিগত মোবাইল চেকিং করার বিষয় নিয়ে বলেন এটি চরম মানহানিকর ও চরম মানবাধিকার লঙ্গন করা হচ্ছে।আমরা প্রতিদিন এভাবে ঢাকায় কর্মস্থলে যাই। কিন্তু আজকে কেন তাদের এই ভোগান্তি। ঢাকার প্রবেশ পথের তিনটি পয়েন্টেই আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা প্যান্ডেল বানিয়ে পুলিশের সামনেই সেখানে মহড়া দিচ্ছে।
একদিকে রাজধানী ঢাকার প্রবেশ পথের তিনটি পয়েন্টে পুলিশের তল্লাশি অপরদিকে নদী পারাপারের সকল ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় রাজধানী ঢাকায় যেতে সাধারণ মানুষদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আমিনুল ইসলাম (ঢাকা দক্ষিণ ক্রাইম এন্ড অপস) বলেন আমরা রাজধানীর প্রবেশ পথের তিনটি পয়েন্ট থেকে সন্দেহভাজন অর্ধ শতাধিক লোক আটক করেছি। তাদের যাচাই-বাছাই চলছে। যাদের নিরাপদ মনে হবে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হবে।








