বাঘায় ব্র্যাকের উদ্দোগে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ২০২৩ আলোচনা সভা
সাজ্জাদ মাহমুদ সুইট, রাজশাহী:ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি (সেলপ) এর আয়োজনে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ হল রুমে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ( ২৫ নভেম্বর — ১০ ডিসেম্বর /২০২৩) উদযাপন এবং বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে পাকুড়িয়া ইউনিয়নের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ শে নভেম্বর) সকাল ১০ টায় পাকুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আমিরুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে এবং ব্র্যাক বাঘা উপজেলার সেলপ অফিসার মোঃ মোমিনুল ইসলামের পরিচালনায় সমন্বিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ইউপি সচিব মোঃ নাজমুল হক, ইউপি সদস্য মেহেদী হাসান লোকমান,মোঃ তরিকুল ইসলাম, মোঃ সালাহউদ্দিন আহম্মেদ,মোঃ নিজামুল হক মুনু, মোঃ কাদের মোল্লা, মোঃ রুবেল ইসলাম, সংরক্ষিত নারী সদস্য নাদিরা খাতুন, কাজী প্রতিনিধি জহির উদ্দিন মাইনুল, ইমাম প্রতিনিধি হাফেজ মাওঃ মোঃ তামিম ইসলাম,পুরোহিত চন্দন কুমার। পাকুরিয়া ইউনিয়নের কাজী প্রতিনিধি বলেন গত ১১ মাসে এই ইউনিয়নে ৫০ শতাংশ বিয়ে বাল্যবিয়ের কারনে রেজিষ্ট্রেশন করা সম্ভব হয় নাই। এবং এই বিয়ে গুলো পাশ্ববর্তী উপজেলা বা ইউনিয়নে অন্য স্থানে গোপনে স্থানীয় ইমামদের মাধ্যমে ঘটছে। তিনি আরও বলেন গত ১১ মাসে ইউনিয়নে যে তালাক কার্যকর হয়েছে তার ৬০ ভাগ নিবন্ধন বিহীন বাল্যবিয়ের ভুক্তভোগী।
নারীর জন্য বিনিয়োগ, সহিংসতা প্রতিরোধ প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া বাল্যবিয়ে ও নারী নির্যাতন মুক্ত গ্রাম গঠনে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। ইউনিয়ন পরিষদ চাইলে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব। অংশগ্রহণকারীগন বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে বাৎসরিক কর্ম পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কাউকে ভুয়া জন্ম সনদ না দেওয়া, বাল্যবিয়ের ঘটনা ঘটলে সাথে সাথে প্রতিরোধের উদ্যোগ গ্রহন করা, প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়া।
ঘটক,কাজী, ইমাম পুরোহিত কেউ বাল্যবিয়ের সাথে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে পরিষদ কর্তৃক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্র্যাকের কার্যক্রম পরিদর্শন করা, ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা, কিশোরীদের চলাচলে সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা, বাল্যবিয়ে দিলে আইনের শাস্তি,জেল জরিমানা ও হট লাইন ১০৯, ৯৯৯ নম্বর বহুল প্রচারে পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন।
মেয়ের সুখের জন্য বাল্যবিয়ে নয়,প্রয়োজন শিক্ষা, সু স্বাস্থ্য ও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ এই বিষয় গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আমিরুল ইসলাম বাল্যবিয়ে মুক্ত পরিবার, সমাজ ও গ্রাম গঠনে ব্র্যাকের গৃহীত কার্যক্রমের সাথে ঐক্যবদ্ধ মনোভাব পোষণ করেন এবং নারী নির্যাতন মুক্ত সমাজ গড়তে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য এই সমন্বিত আলোচনা সভায় জনপ্রতিনিধি, কাজী, পুরোহিত ও ইমামগন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেন।








