ঢাকা | মার্চ ১৩, ২০২৬ - ৬:৩২ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

তেঁতুলিয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের উপর হামলার অভিযোগ নৌকা কর্মীর বিরুদ্ধে

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Thursday, January 4, 2024 - 9:19 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 71 বার

পঞ্চগড় প্রতিনিধি:পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমথর্কের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে নৌকার দুই কর্মীর বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের মাঝিপাড়া এলাকায় পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া জাতীয় মহাসড়কের উপর ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামের উপর হামলা করে পালিয়ে যায় তারা ।

এদিকে চেয়ারম্যানের উপর হামলার ঘটনার পরপরই ক্ষুব্ধ হয়ে চেয়ারম্যানের লোকজন স্থানীয় মানুষসহ স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার সাদাত সম্রাটের লোকজন এসে সড়ক অবরোধ করেন ।

পরে আধাঘন্টার পর তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে রাব্বী এবং তেঁতুলিয়া মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজয় কুমার রায়োহ থানা পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন এবং ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুলের সাথে আলোচনা করার পর অবরোধ তুলে নেন। বর্তমানে মাঝিপাড়া (শালবাহান রোড) এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে।

স্থানীয়রা জানান,শালবাহান রোড এলাকায় পঞ্চগড় ১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাটের সমথর্ক ও ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম যাওয়ার সাথে সাথে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী নাঈমুজ্জামান ভূইয়া মুক্তার নৌকার কর্মী ইমদাদুল ও আনোয়ার গালিগালাজ শুরু করে। পরে তিনজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তিনজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ সময় চেয়ারম্যানের উপর দুজন মিলে হামলা করেন। তাৎক্ষনিক সেখান থেকে চেয়ারম্যান চলে যায়। পরে ওই এলাকার চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ট্রাক মার্কার লোকজন এসে সড়ক অবরোধ করেন। এদিকে ইউএনও আসার পর অবরোধ তুলে নেন ট্রাক মার্কার লোকজন।

শালবাহান ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম জানান, আমি শালবাহান রোডে আসার সাথে সাথে আমাকে ইমদাদ ও আনোয়ায়ার নামে দুজন মাদকসেবী আমার উপর হামলা চালায় । আমি এই ঘটনার তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমার উপর যারা হামলা করছে তাদের বিচার চাই।

এদিকে অবরোধের পর পঞ্চগড় ১ আসনের আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল লতিফ তারিন অভিযোগ করে বলেন,শালবাহান রোড এলাকায় গেলে ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুলের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আশরাফুলের লোকজন আমার উপর চড়াও হয়। পরে সেখান থেকে পুলিশ আমাকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবী জানাচ্ছি।

তেঁতুলিয়া মডেল থানার (ওসি) সুজয় কুমার রায় জানান, বিকেলে শালবাহান রোড এলাকায় ট্রাক ও নৌকা মার্কার লোকজনের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনার খবর শুনে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। সেখানে গিয়ে দেখা যায় ইউপি চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী ট্রাক মার্কার লোকজন সড়ক অবরোধ করছেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে রাব্বী এসে আলোচনার মাধ্যমে প্রায় আধাঘন্টা পর অবরোধ তুলে নেন। এই ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

এবিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে রাব্বী জানান, অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। দু পক্ষই মোখিকভাবে পরস্পরের উপর হামলার অভিযোগ করছেন।