ঢাকা | মার্চ ১১, ২০২৬ - ২:১২ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

কমিটি কোন্দলে বিভক্ত ;গঙ্গাচড়ার সার্বজনীন কেন্দ্রীয় দুর্গা ও কালীমন্দির

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Thursday, October 3, 2024 - 10:50 am
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 99 বার

রেখা মনি,রংপুর ব্যুরো:কমিটির লোকজন নিজেদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গঙ্গাচড়ার ঐতিহ্যবাহী সার্বজনীন কেন্দ্রীয় দুর্গা ও কালীমন্দিরটি হয়েছে বিভক্ত। এতে সচেতন মহলসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। অভিযোগ উঠেছে মন্দির কমিটির লোকজনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে আদি মন্দির থেকে সরে গিয়ে একই নামে নির্মান করা হয়েছে আরেকটি মন্দির।

প্রায় ৪৫ বছর ধরে কালের সাক্ষী হয়ে ঐতিহ্য বহন করছে গঙ্গাচড়া উপজেলার কেন্দ্রীয় দুর্গা ও কালি মন্দির। একসময় জাঁকজমকপূর্ণভাবে এই মন্দিরে পালন করা হতো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পুজা-পার্বনগুলো। ঐতিহ্যবাহী আদি এই মন্দিরে উৎসব পালনে স্থানীয়সহ দূর দূরান্তের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আসতেন এখানে। মন্দিরের সকল কার্যক্রমেও ছিল সচ্ছলতা। তবে একই নামে দ্বৈত মন্দির স্থাপনায় একদিকে কার্যক্রমে কমছে চাঞ্চল্যতা অন্যদিকে বিতর্কের পাশাপাশি জৌলুশ হারাচ্ছে এই মন্দিরটি।

আদি এই মন্দিরটি স্থাপিত হয় ১৯৭৯ সালে৷ এই মন্দিরের সভাপতি ও বাংলাদেশ পূজা উৎযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্রী কালী রঞ্জন রায়ের পৈতৃকসম্পত্তি ধামুর পাড়া মৌজায় তার বাবা শ্রী সুরেন চন্দ্র রায়ের দান করা পৃথক ২টি দলিলে ৩ একর জমিতে নির্মান করা হয়েছিল। যা উপজেলার জিরো পয়েন্ট হতে অর্ধকিলোমিটার দূরে অবস্থিত। দীর্ঘবছর পরে আওয়ামী লীগ নেতাদের ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কোন্দল সৃষ্টি করে অবৈধভাবে সরকারি খাস ৩৫.৭৫ জমিতে গঙ্গাচড়া থানার সামনে মুরগি হাটিতে গড়ে তোলা হয় একই নামের আরেকটি মন্দির।

একটা সময় সার্বজনীন দুর্গা ও কালীমন্দিরের কমিটিতে থাকা একটি মহল প্রভাব খাটিয়ে ষড়যন্ত্র করার পাশাপাশি স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে সাহায্য করছেন সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এমন অভিযোগ উঠেছে। আদি এই মন্দিরের নিজস্ব জমি ও সকল কাগজপত্রের বৈধতা থাকলেও নতুন মন্দিরটি নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রশাসনের স্মরণাপন্ন হলেও নিরব ভূমিকা ছাড়া মিলেনি কোন প্রতিকার। তাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে বিষয়টি জেলা প্রশাসক বরাবর অবগত করান মন্দির কমিটি।

বিষয়টি প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে বেশ কয়েকবার নোটিশ পাঠানো হয়েছে নতুন মন্দিরটির কমিটিকে। এমনকি গঙ্গাচড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে, অবৈধ কোন স্থায়ী বা অস্থায়ী স্থাপনা নির্মান করা সম্পূর্ণরুপে দন্ডনীয় বলে জানানো হয়।

গঙ্গাচড়া উপজেলার সার্বজনীন কেন্দ্রীয় দুর্গা ও কালীমন্দির কমিটির সভাপতি কালীরঞ্জন রায় বলেন, আমাদের এই মন্দিরটি অনেক ঐতিহ্যবাহী। আমরা কখনো বিরোধ চাইনি চেয়েছি সমঝোতা। তবে আওয়ামীলীগের কিছু ক্ষমতাসীন নেতারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে বিভক্ত হয়ে গিয়ে নতুন মন্দির নির্মান করেন। আজকে স্থানীয়দের মাঝে একই নামে দুই মন্দির নিয়ে বির্তকিত হওয়ার জন্য দায়ী নতুন মন্দিরের কমিটিকে দায়ী করেন।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলার কেন্দ্রীয় দুর্গা ও কালী মন্দিরের নেত্রী ভাইস চেয়ারম্যান ক্ষ্যান্ত রাণী বলেন, তাদের মধ্যে কোন বিরোধ বা ক্ষোভ নাই। ইতিমধ্যে ১৪ বছর হয়েছে এই মন্দিরের,অর্থাৎ এটিও আদি মন্দির হিসেবে বিবেচিত করা যায়। সরকারি খাস জমিতে মন্দিরটি নির্মান নিয়ে প্রশ্ন করলে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।

একই নামে দুটি মন্দির নিয়ে সুধীজনদের মাঝেও নানান জল্পনা কল্পনা। ধর্মীয় মন্দিরে ঐক্যবদ্ধতার বিপরীতে বিভক্ত নিয়ে শঙ্কিত তারা। সকলের মাঝে সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাব বজায় রাখতে বিভক্ত নয়, সেখানকার বসবাসরত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা চান ঐক্যবদ্ধতা।

তবে সরকারি খাসজমিতে মন্দির নির্মাণ ও পূজা উদযাপন বিষয়ে জানতে গংগাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে রংপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক মাসুদ রানা বলেন, ইতিপূর্বে অভিযোগ আছে কি না আমার জানা নেই, তবে যদি অভিযোগ থাকে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হবে।