পঞ্চগড়ে এক শিক্ষক দুই প্রতিষ্ঠানের ৯ বছর ধরে কর্মরত
স্নিগ্ধা খন্দকার পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃসরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন করে পঞ্চগড়ের এক শিক্ষিকা একইসঙ্গে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন। টানা ৯ বছর ধরে এই নিয়মভঙ্গের বিষয়টি সম্প্রতি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে শুরু হয় তদন্ত। অভিযুক্ত শিক্ষিকার নাম মোছা. নাজমুন নাহার। তিনি এক প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক এবং অন্যটিতে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। উভয় প্রতিষ্ঠানই এমপিওভুক্ত।
নাজমুন নাহারের বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার ইসলামবাগ গ্রামে। তিনি ২০০৯ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হিসেবে চাকরি শুরু করেন এবং ২০১৫ সাল থেকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ৪১ নং সাতমেড়া ফুলবড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। নিয়মিত বেতন-ভাতাও পাচ্ছেন তিনি। একই সময়ে, ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে, তিনি তেঁতুলিয়া উপজেলার মাঝিপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজে দর্শন বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন এবং এখনও সেখানে কর্মরত আছেন।
মাঝিপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোজাহারুল ইসলাম বলেন, “নাজমুন নাহার ২০১৫ সাল থেকে আমাদের কলেজে শিক্ষকতা করছেন। তিনি নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকেন, তবে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক কি না, সে বিষয়ে আমার জানা নেই। তিনি আমাদের কলেজে বিনা বেতনে কাজ করছেন, কেননা ডিগ্রি পর্যায়ে তিনজন শিক্ষক প্রয়োজন হয়।”
এদিকে ৪১ নং সাতমেড়া ফুলবড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন বলেন, “নাজমুন নাহারের দুই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার বিষয়টি সম্প্রতি জানতে পেরেছি। তিনি নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত থাকেন এবং সরকারি বেতন-ভাতাও গ্রহণ করছেন।”
মাঝিপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম শাহীন বলেন, “নাজমুন নাহার আমাদের কলেজে নিয়মিত শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন এবং অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে তার সংশ্লিষ্টতা নেই বলে তিনি চুক্তিতে উল্লেখ করেছেন। সেই ভিত্তিতে তার এমপিওভুক্তির আবেদন শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।”
অভিযুক্ত শিক্ষিকার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মাঝিপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজটি ২০০৪ সালে এমপিওভুক্ত হয় এবং নাজমুন নাহার সেখানে বিনা বেতনে প্রায় ৯ বছর ধরে চাকরি করছেন।








