ঢাকা | মার্চ ১১, ২০২৬ - ৩:৫১ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

পিকনিক খেতে গিয়ে দোতলা বাসে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে তিন বন্ধুর মৃত্যু

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Sunday, November 24, 2024 - 11:27 am
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 174 বার

রেখা মনি, রংপুর ব্যুরো প্রধান:গাজীপুরের শ্রীপুরে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) পিকনিকের দোতলা বাস বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে একজন রংপুর নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকার ইমতিয়াজ হোসেন ইমনের ছেলে মুবতাসিম রহমান মাহিন (২২)। শনিবার (২৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের উদয়খালী গ্রামে দুর্ঘটনায় মারা যায় সে।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিকনিকে যাওয়ার পথে বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা গেছে ছেলে মাহিন। তবে, প্রতিবেশি-স্বজনেরা মৃত্যুর খবর জানলেও মা জানেন ছেলে আহত হয়েছে।

ছেলের মরদেহ আসা পর্যন্ত যেন মায়ের কানে মৃত্যুর খবর না পৌঁছায় সেজন্য স্বজনেরা চালাচ্ছেন জোর প্রচেষ্টা। প্রতিবেশী ও অন্য কাউকে বাড়ির আশপাশে ভিড়তে দিচ্ছেন না তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাহিনের বাবা ইমতিয়াজুর রহমান ইমন এবি ব্যাংকের সৈয়দপুর শাখার ব্যবস্থাপক। দুই ভাইয়ের মধ্যে মাহিন বড়।

মা-বাবা ও পরিবারের খুব আদরের সন্তান ছিল মাহিন।
মুবতাসিম রহমান মাহিনের চাচা হাসান রহমান জানান, আইইউটি ইউনিভার্সিটিতে ক্যারিয়ার অ্যান্ড বিজনেস সোসাইটিতে শেষ বর্ষে পড়ছিল। সকালে সে বাসে বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা গেছে। মাহিনের বাবা ঢাকার পথে রওনা দিয়েছে।

বিষয়টি এখনো তার মাকে জানানো হয়নি। ছেলের মৃত্যুর খবর তার মা সহ্য করতে পারবে না। এ জন্য বাড়ির আশেপাশে কাউকে আসতে দেওয়া হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ‘আমার বাবা (মাহিন) গেছে ওখানে (আইইউটি) ভালো কিছু করে আসবে। তার কোনো ক্ষতি কল্পনাতেই আসে না।

তাকে ফিরতে হবে লাশ হয়ে এর মতো দুঃখজনক কিছু হতেই পারে না। এখানে শতভাগ একটা অবহেলা ছিল, দায়িত্বে ছিল যারা। একটা তার ঝুলে পড়বে গায়ের মধ্যে এটা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই, কার অবহেলার কারণে আমাদের সন্তানকে হারাতে হলো, এমন ঘটনা ঘটল।’
চাচাতো ভাই ইমতিয়াজ রহমান বলেন,‘সর্বশেষ দুই সপ্তাহ আগে কথা হয়েছিল। আর কথা হয়নি। অনেক ভালো ছিল মাহিন ভাই। কখনও কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করতো না। আমাদেরকে অনেক ভালোবাসত। ভাইকে অনেক মিস করব। আমার ভাইয়ের মতো যেন আর কারও মৃত্যু না হয় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি।’

মাহিনের মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন ছোটবেলার বন্ধু তাসিম। মাহিনের বাড়ির পাশে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাসিম বলেন, ‘আন্দোলনের সময় তিন মাস একসাথে ছিলাম। কিন্তু পরীক্ষা থাকায় সে ঢাকায় চলে যায়। প্রায় দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে হঠাৎ সে বাড়িতে আসছিল। যাওয়ার সময় খুব তাড়াতাড়ি বাড়িতে ফিরবে বলে জানিয়েছিল। কিন্তু বন্ধু যে সারা জীবনের জন্য ফিরবে তা কল্পনাও করতে পারছি না।